ঈদযাত্রায় স্বস্তির আশ্বাস, যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪ লেন সুবিধা

আসন্ন ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যানজটমুক্ত রাখতে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীন সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতায় চলমান এসব উদ্যোগের ফলে সংশ্লিষ্ট অংশে যান চলাচল এখন বাধাহীনভাবে স্বাভাবিক গতিতে চলছে।
রবিবার (২৪ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের চাপ সামলাতে এলেঙ্গা-যমুনা সেতু অংশে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। এ দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও যুগ্মসচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী।
এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত বর্তমান ট্র্যাফিক ব্যবস্থা ও ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বিগত বছরগুলোতে এই অংশটি ঈদযাত্রায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালেও এবার সাসেক প্রকল্প-২-এর আওতায় নেওয়া উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, নির্মিত দুই লেনের সার্ভিস সড়ক এবং বিদ্যমান দুই লেনের মূল সড়ক সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যত চার লেনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে উত্তরবঙ্গ ও ঢাকামুখী উভয় দিকের যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে। পাশাপাশি যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর থেকে ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশন পর্যন্ত ৭০০ মিটার রিজিড পেভমেন্ট সড়কও যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলেঙ্গা বাজার ফ্লাইওভার এলাকায় উভয় পাশে দুই লেন করে সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাস-বে নির্মাণের কারণে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামাজনিত যানজট এড়ানো সম্ভব হবে। রাতের সময় নিরাপদ চলাচলের জন্য রিফ্লেকটিভ স্টিকারযুক্ত বাঁশের খুঁটি এবং টেকসই কংক্রিট ডিভাইডার স্থাপন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের টিম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রকৌশলীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন বলেও তিনি জানান।
সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতায় এলেঙ্গা-যমুনা সেতু অংশটি একপাশে দুই লেন সার্ভিস সড়কসহ মূল চার লেন অর্থাৎ মোট ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে কার্যত চার লেনের সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন নতুন দুই লেনের সার্ভিস সড়ক ব্যবহার করছে এবং ঢাকামুখী যানবাহন চলাচল করছে মূল দুই লেনে।
এলেঙ্গা বাজার ফ্লাইওভার অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নকশায় সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। উভয় পাশে চার লেন সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় এই এলাকায় কোনো কৃত্রিম যানজট তৈরি হচ্ছে না।
গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণে এলেঙ্গা বাজার এলাকায় উত্তরবঙ্গমুখী ও ঢাকামুখী লেনের জন্য পৃথক দুইটি স্থায়ী বাস-বে নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আরও একাধিক বাস-বে চালু রয়েছে। জলাবদ্ধতা রোধে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রকল্প এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নির্মাণাধীন মূল দুই লেন সড়ক ও সার্ভিস সড়কের মাঝখানে টেকসই কংক্রিট ডিভাইডার স্থাপন করা হয়েছে। বাঁক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রিফ্লেকটিভ স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছে, যা রাতে দূর থেকেও দৃশ্যমান।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টোল বুথে দক্ষ জনবল নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, ETC (ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন) চালু, উন্নত সিসিটিভি নজরদারি, সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম, জরুরি চিকিৎসা ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুতি, রেকার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত খুচরা টাকার ব্যবস্থা এবং জরুরি টোল লেন চালু।
এছাড়া কোরবানির পশুবাহী যানবাহনকে ওজন পরিমাপ যন্ত্র (Weighing Scale Machine)-এর আওতামুক্ত রাখা হবে এবং সেতুর প্রতি ৩০০ মিটার পর নিরাপত্তা গার্ড মোতায়েন থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
সার্বিক উন্নয়ন ও প্রস্তুতির ফলে আসন্ন ঈদে এলেঙ্গা-যমুনা সেতু অংশে যান চলাচলে কোনো বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা যানজটের আশঙ্কা নেই বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







