সমকামিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরে মারামারি!

বগুড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথোপকথন, ব্যক্তিগত বিরোধ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সাংবাদিক আবু সাঈদের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বগুড়া সদর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি মো. আবু সাঈদের সঙ্গে শাফায়াত সজলের ব্যক্তিগত বিরোধের সূত্রপাত হয় ফেসবুক মেসেঞ্জারের কিছু কথোপকথনকে কেন্দ্র করে। সাঈদের দাবি, শাফায়াত সজল তাকে একাধিকবার আপত্তিকর ও অশালীন প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সাঈদের ভাষ্যমতে, মেসেঞ্জারে শাফায়াত সজল বিভিন্ন সময় তাকে ব্যক্তিগত ও অশালীন বার্তা পাঠান এবং বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এসব প্রস্তাবে অসম্মতি জানালে সজল তার ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত ১৯ মে তারিখের ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আবু সাঈদ। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ওইদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফাঁপোড় ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ চাল বিতরণের সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে শাফায়াত সজল ও রসুল খন্দকারের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তারা লাঠি, কাঠের বাটামসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার হাত, পা ও পাঁজরে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সাঈদের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
এর কিছুদিন পর স্থানীয় একটি হাট এলাকায় পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেখানে আবু সাঈদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টাভাবে হামলাকারীদের মারধর করে।
পরবর্তীতে শাফায়াত সজল বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে আবু সাঈদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। এসময় সাঈদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে শাফায়াত সজলের কপালে গুরুতর জখম হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এছাড়া লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার পর পুলিশ আবু সাঈদকে আটক করে আদালতে পাঠায়।
এদিকে, প্রথমে সাঈদের অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া এবং পরে পাল্টা মামলায় দ্রুত গ্রেপ্তারের ঘটনায় বগুড়া সদর থানা পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, শুরুতেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি এতদূর গড়াত না।
তবে এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।
ভিওডি বাংলা/আ, স, ম, জাকারিয়া/জা







