মোদির বাড়ির সামনে থেকে রাহুল গান্ধী আটক

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবারও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গেলে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের পুলিশ আটক করে সরিয়ে দেয়।
এর আগে সোমবার শিক্ষার্থী ও তরুণদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। দিল্লি পুলিশের দাবি, ওই সংঘর্ষে অন্তত ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান
মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা খাড়গের সরকারি বাসভবন থেকে পদযাত্রা শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের সামনে পৌঁছান। রাহুল গান্ধী ঘোষণা দেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন,
"শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে ভারতের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, তিনি জবাব না দিয়েই পার পেয়ে যাবেন। এবার তা হবে না। শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে সবাইকে আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক, সমাধান হলো না
বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে এসে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কয়েক মিনিট আলোচনা করেন।
কংগ্রেসের দাবি, সরকার শুধু বিক্ষোভ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়, কিন্তু তাদের মূল দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা—মেনে নিতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, রাহুল গান্ধী প্রথমে শুধু সংসদে আলোচনা চেয়েছিলেন। পরে তিনি নতুন করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও যুক্ত করেন।
পুলিশি অভিযান ও আটক
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভস্থল খালি করে দেয়। রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও নেতা-কর্মীকে আটক করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিজেপির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এই কর্মসূচি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছিল। তবে কংগ্রেস দাবি করেছে, তাদের আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ
এদিকে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে অবিলম্বে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
মোদির বার্তা
এনডিএ সংসদীয় দলের 'মঙ্গল মিলন' বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে "সবচেয়ে কঠোর শাস্তি" নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর বার্তা তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের স্বার্থে সব দলের সাংসদদের গঠনমূলক ভূমিকা রাখা উচিত।
তিনি আরও জানান, প্রশ্নফাঁসের খবর প্রকাশের পর থেকেই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংসদেও অচলাবস্থা
বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দুই দিনই প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই মুলতবি হয়ে যায়।
কংগ্রেসের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার বিষয়টি সংসদে তুলতে চাইলেও তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী, তবে সহিংসতার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য