৩ নদী পানি বিপৎসীমার ওপরে, ১৪ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টির প্রভাবে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের অন্তত ১৪টি জেলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত কেন্দ্রটির সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলের কয়েকটি নদীতে ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আরও কয়েকটি জেলায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের ছাতক, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনার কলমাকান্দা এলাকায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে সীমান্তঘেঁষা নদীগুলোতে উজানের পানি আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টিপাত একসঙ্গে অব্যাহত থাকলে নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশের ঝুঁকি বাড়বে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। আগামীকাল পর্যন্ত এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর একদিন পানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় আকস্মিক বা স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত এক দিনে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। যদিও কুশিয়ারার কিছু অংশে পানি সামান্য কমেছে, তবে আগামী তিন দিন আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
বিশেষ করে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে নতুন করে পানি প্রবেশ অথবা চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নদীর পানি আগামীকাল পর্যন্ত আরও বাড়তে পারে।
পাউবো জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানিও সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু অংশে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায়ও পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। যদিও পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে, তবে আগামী চার দিনের মধ্যে এর পানিও বাড়তে পারে।
আগামী দুই দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে করতোয়া ও ছোট যমুনার পানি কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনের মধ্যে আবার বাড়তে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু স্থানে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদী সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। হালদা নদীর পানি কিছুটা কমলেও মাতামুহুরী নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামীকাল পর্যন্ত এসব নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য