কসবায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড, নিঃস্ব ৪ ব্যবসায়ী

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মনকাশাইর বাজার। বাড়তি ক্রেতার আশায় ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে তুলেছিলেন অতিরিক্ত পণ্য। কিন্তু ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বাজারের চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের মনকাশাইর বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে সেবা মেডিসিন হল, পপুলার ফার্মেসি, আনু স্টোর ও একটি চায়ের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় দোকানগুলোর ভেতরে থাকা মালামাল, আসবাবপত্র ও নগদ অর্থও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আগুন নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন। তবে দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রাসেল সরকার জানান, আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। একই সঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ও আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে বাড়তি বিক্রির আশায় তারা দোকানে নতুন পণ্য তুলেছিলেন। অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় এখন তারা পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, “ঈদের আগে পশুর হাট বসার কথা ছিল। তাই বিক্রির আশায় অনেক মাল তুলেছিলাম। এখন দোকানে কিছুই নেই। ধার-দেনা করে ব্যবসা করেছি, কিন্তু আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে।”
খাড়েরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহন মিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। পুড়ে যাওয়া একটি দোকানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। অন্য দোকানগুলোতেও বিপুল পরিমাণ পণ্য মজুত ছিল। ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা অনেক কষ্ট করে দোকান সাজিয়েছিলেন। এখন তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
এদিকে আগুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত সহযোগিতা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
কসবা ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মানিক সিকদার জানান, দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই আগুন পাশের অন্যান্য দোকানে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।
ভিওডি বাংলা/জা







