বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় খুন

ভারতের পাঞ্জাবি সংগীত অঙ্গনের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইন্দর কৌর হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর লুধিয়ানার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবার বলছে, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তিই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৩ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাজার করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ইন্দর কৌর। এরপর আর ফেরেননি তিনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
নিহত শিল্পীর ভাই জোটিন্দর সিং দাবি করেন, মোগার ভালুর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখার সঙ্গে ইন্দরের সম্পর্ক ছিল। পরে তিনি জানতে পারেন সুখবিন্দর বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে। এ তথ্য জানার পর ইন্দর তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বিয়ের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন।
পরিবারের অভিযোগ, এর জের ধরেই ১৩ মে সুখবিন্দর ও তার সহযোগীরা অস্ত্রের মুখে ইন্দর কৌরকে অপহরণ করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অভিযুক্তরা কানাডা থেকে নেপাল হয়ে পাঞ্জাবে আসে এবং হত্যাকাণ্ডের পর একই পথে পালিয়ে যায়।
গত ১৫ মে জামালপুর থানায় সুখবিন্দর সিং ও তার সহযোগী করমজিৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
থানার কর্মকর্তা বলবীর সিং জানিয়েছেন, ইন্দর কৌরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সামরালার সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো পুলিশ ব্যবস্থা নিলে হয়তো জনপ্রিয় এই শিল্পীকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
ইন্দর কৌর পাঞ্জাবি সংগীত জগতের পরিচিত মুখ ছিলেন। ‘আফগান জট্টি’, ‘সোহনা লাগদা’, ‘লানেদারনি’ ও ‘সোনে দি ওয়াং’-এর মতো জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। গানের পাশাপাশি তিনি পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করতেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার।
জনপ্রিয় এই শিল্পীর মৃত্যুতে পাঞ্জাবি সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও ভক্তরা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







