বাসার সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা, মেয়ের কুলখানিতে গ্রামে গেলেন মা-বাবা

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শুক্রবার (২২ মে) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অনেক প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-‘শিশু হত্যার বিচার চাই’, ‘রামিসার খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন ভয়াবহ ঘটনার পরও যদি দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়বে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন অভিভাবক বলেন, সন্তানদের নিয়ে এখন আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। তারা মনে করছেন, অপরাধীদের কঠোর শাস্তিই ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এক নারী প্রতিবাদকারী বলেন, “একটি নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই দ্রুত বিচার হোক এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন রামিসার বাবা-মা। শুক্রবার দুপুরের দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে তারা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষজন তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কান্নায় বারবার ভেঙে পড়তে দেখা যায় পরিবারটিকে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রামিসার মা এখনও মেয়ের ব্যবহৃত জামাকাপড় আঁকড়ে ধরে কাঁদছেন। অন্যদিকে বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাও মেয়েকে ঘিরে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন আগেই মেয়ের জন্য নতুন একটি বোরকা কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পোশাক আর পরা হয়নি ছোট্ট রামিসার।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজ করতে গিয়ে রামিসার মা সন্দেহজনক পরিস্থিতি লক্ষ্য করেন। পরে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা দেখে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ময়নাতদন্ত শেষে রামিসার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুর এলাকায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় মানুষ ও স্বজনদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভিওডি বাংলা/জা







