কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত ৯

দিনাজপুরে ফিল্ড ট্রিপ শেষে একটি বাসযোগে ফেরার পথে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিস্তা ব্রিজ টোল প্লাজার কর্তব্যরত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
গতকাল (১৯ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রংপুর-লালমনিরহাট মহাসড়কে অবস্থিত তিস্তা ব্রিজ টোল প্লাজা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বাসচালকের সঙ্গে টোল প্লাজার দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজনের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে ঘটনা সমাধান করতে একজন শিক্ষক এগিয়ে এলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও টোল প্লাজার কয়েকজন কর্মচারী কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের গায়ে হাত তোলেন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, পরে কয়েকজন ব্যক্তি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৫ জন গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে কথা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাদেকুজ্জামান লিমন জানান, আমাদের আহত শিক্ষার্থীরা কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আজ সকালে আমাদের কয়েকজন শিক্ষক লালমনিরহাট থানায় গেছেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গতরাতে তিনি লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিকে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগত করেন। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ২ জন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমসহ শিক্ষকরা আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।
লালমনিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহম্মেদ জানান, আজ (২০ মে) আনুমানিক দুপুর ২টায় তারা কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছেন। এখনো মামলা রুজু হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভিওডি বাংলা/এরশাদুল হক/এমএস







