সোনারগাঁয়ে ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় চালককে পিটিয়ে হত্যা

মাত্র ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোমিনুল (৪০) নামের এক অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চার দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ বুধবার (২০ মে) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শ্রমিক ও এলাকাবাসী নিহতের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। এর ফলে মহাসড়কের চট্টগ্রামগামী লেনে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৬ মে) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাংলাবাজার রুটের লাইনম্যান শাহীন অটোরিকশা চালক মোমিনুলের কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। মোমিনুল আগেই চাঁদা দিয়েছেন জানালে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে লাইনম্যান শাহীন লাঠি বা ভারী বস্তু দিয়ে মোমিনুলের মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ চাঁদাবাজি চলছে। প্রতিটি ট্রিপ বা দৈনিক ভিত্তিতে সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়। কোনো চালক এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলেই তার ওপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
এদিকে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত শনিবার হামলার ঘটনা ঘটলেও সোনারগাঁ থানা পুলিশ বিষয়টি শুরুতে মোটেও আমলে নেয়নি। মামলা বা অভিযোগ গ্রহণে পুলিশের পক্ষ থেকে গড়িমসি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। স্বজনদের অভিযোগ পুলিশের এই অনীহা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণেই অভিযুক্ত লাইনম্যান শাহীন পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
আজ সকাল থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স মহাসড়কে রেখে বিক্ষোভ শুরু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু করে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত লাইনম্যান শাহীনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ







