‘ব্লকেড’ কর্মসূচিতে অচল ডুয়েট

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) অচলাবস্থার অবসান হয়নি। রোববার (১৭ মে) রাত থেকেই প্রবেশ করা ও বের হওয়ার সব গেট বন্ধ করে দিয়ে ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
সোমবার (১৮ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জানিয়েছে, তিনটি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রদল ডুয়েট শাখা। হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছে তারা।
এদিকে, রোববার সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। ছাত্রদল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, নতুন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত রোববার যোগদান করে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন। এদিকে দ্রুত সমস্যার সুরাহা দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
জানা গেছে, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে গত রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, শিক্ষার্থী ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল ডুয়েটে বৈঠকে বসে। বৈঠক চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।
বৈঠকে সদ্যবিদায়ী উপাচার্য উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না নতুন উপাচার্য। আলোচনায় যেসব সিদ্ধান্ত হয় শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা তা মেনে নেওয়ার ব্যাপারে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মতামত জানানোর কথা জানান। কিন্তু রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করা ও বের হওয়ার সব গেট বন্ধ করে দিয়ে ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে বা বের হতে না দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে তাঁদেরও বাধা দেওয়া হয়। এতে গেটের বাইরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিড় দেখা গেছে। ব্লকেড কর্মসূচির কারণে বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তিন দফার মধ্যে রয়েছে নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ এবং রোববারের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তাঁরা সংঘর্ষ ও হামলার জন্য ছাত্রদল ও বহিরাগতদের দায়ী করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, রোববারের হামলায় ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ডুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণার পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান জরুরি। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষায় সব পক্ষকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহবান জানানো হয়।
বিকেলে ক্যাম্পাসের বাইরে একটি কোচিং সেন্টারে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলনে ডুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির বলেন, ‘উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই কিছু ছাত্র উগ্রবাদীদের মতো আচরণ করতে থাকে। বর্তমান উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে আমরা স্যারকে অভ্যর্থনা জানাতে গেটের বাইরে অগ্রসর হই। আমরা বের হলে তারা গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। আমরা তাদের তালা খুলে দিতে অনুরোধ করি। তারা তালা না খুলে স্যারের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে। দুই পক্ষই গেট ধরে ধাক্কাধাক্কি করায় গেট খুলে যায়। শিবিরের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশও আহত হয়েছে। পাঁচ-ছয়জন ছাত্রদল নেতা ও আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।’
গাজীপুর মহানগরী সদরের ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে থানায় অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে ডুয়েট থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ। রোববার নবনিযুক্ত উপাচার্য যোগদান করতে গেলে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
ভিওডি বাংলা/এফএ







