• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নাগরিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৬ মে ২০২৬, ০১:৫৫ পি.এম.
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: ভিওডি বাংলা

'কমিউনিটি পুলিশিং, সবাই মিলে গড়ি নিরাপদ সমাজ' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজ ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে ডিএমপি ঢাকার পল্লবী থানার আয়োজনে এক 'ওপেন হাউজ ডে' অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) পল্লবী পুরাতন থানার সামনে অবস্থিত পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী সেতুবন্ধন তৈরি হয়। 

অনুষ্ঠানে স্থানীয় নাগরিকরা সরাসরি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে তাদের এলাকার মাদক বিক্রেতা, মাদক সেবন ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতসহ নানা ধরনের সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন এবং প্রতিকার দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি ঢাকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার জনাব এস এন মো. নজরুল ইসলাম পিপিএম এবং ডিএমপি মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মো. মোস্তাক সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক সমাজের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ দূর করার দায়িত্ব শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার নয়, এখানে সাধারণ জনগণেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিকরা যদি পুলিশকে সার্বিকভাবে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তবে অনেক জটিল সমস্যার সমাধান সহজেই সম্ভব।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে অনেকেই ঠিকমতো এই সহযোগিতা করেননি। তিনি যেখানেই গেছেন স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে আলাপে সব সময়ই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছর পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং সংস্থাকে একটি ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে যাতে তারা সত্যিকার অর্থেই জনগণের বন্ধু হতে পারে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে জনগণের নিরপেক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন, অন্যথায় পুলিশের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার জনাব এস এন মো. নজরুল ইসলাম পিপিএম তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৩১ দফার কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের ইশতেহারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন।

বর্তমান সরকার প্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপিসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এই নীতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেন, পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা পেলেই সমাজকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জনগণের সব অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পল্লবী এলাকাকে মাদক ও কিশোর গ্যাং মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঈদযাত্রায় যানজট-চাঁদাবাজি বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার আহ্বান
ঈদযাত্রায় যানজট-চাঁদাবাজি বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার আহ্বান
কিছুক্ষণের মধ্যে বরুড়ায়ের পথসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
কিছুক্ষণের মধ্যে বরুড়ায়ের পথসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
সেভর এক্সপোতে স্যামসাংয়ের সিস্টেম এসি সলিউশন প্রদর্শন
সেভর এক্সপোতে স্যামসাংয়ের সিস্টেম এসি সলিউশন প্রদর্শন