ঈদযাত্রায় যানজট-চাঁদাবাজি বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার আহ্বান

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সড়কে যানজট কমানো, টোলপ্লাজা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং চাঁদাবাজি বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের সাগর-রুনি মিলনায়তনে 'পবিত্র ঈদুল আজহার আগে যানজট নিরসন এবং সড়ক চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের করণীয়' শীর্ষক নাগরিক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
হাবিব বলেন, গত বছর ঈদযাত্রায় বাড়ি যাওয়ার পথে ভয়াবহ যানজটের মুখে পড়েছিলেন। পরে ঢাকা রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজির সঙ্গে কথা বলে তিনি প্রস্তাব দেন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একমুখীভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করলে যানজট কমতে পারে। পরে সেই পদ্ধতি কার্যকর করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
টোলপ্লাজায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যানজট তৈরি হয় উল্লেখ করে হাবিব বলেন, '২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড করে দেরি হতে হতে বিশাল লাইন তৈরি হয়।' এ সমস্যার সমাধানে ক্যামেরাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, গাড়ি চলন্ত অবস্থায় নম্বর শনাক্ত করে পরে মোবাইল বার্তা বা অন্য পদ্ধতিতে টোল পরিশোধের সুযোগ রাখা যেতে পারে।
সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, 'কোথাও কোনো গাড়ি আটকে রেখে যেন চাঁদা নেওয়া না হয়।' সড়ক পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলেন বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন, বর্তমানে সিসি ক্যামেরার কারণে চালকেরা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। একইভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ালে চাঁদাবাজিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নিজের ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাবিব বলেন, বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের কারণে তাঁর গাড়ি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিরাপদ সড়ক নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন। চালকদের মানবিক ও দায়িত্বশীল করে তুলতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব, প্রশিক্ষণের সময় চালকদের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরা উচিত, যাতে তাঁদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়।
সড়কের মাঝখানে উঁচু ডিভাইডার নির্মাণের পক্ষেও মত দেন তিনি। তাঁর মতে, কার্যকর ডিভাইডার থাকলে বিপরীতমুখী সংঘর্ষ কমবে এবং দুর্ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
কোরবানির পশুর বাজারে অতিরিক্ত দর-কষাকষি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও জ্বালানি তেল মজুতের সমালোচনা করেন তিনি।
সরকারের উদ্দেশে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, মানুষের প্রত্যাশা অনেক। যানজট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি সম্ভব হবে।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







