ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ কয়েকদিন ঢাকা মেডিকেলের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন থাকার পর স্বামী-স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তান একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরিবারটি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
শনিবার (১৬ মে) সকালে মা সালমা বেগম (৪০), ছেলে মুন্না (১২), দুই মেয়ে মুন্নী (৯) ও শিশু কথা (৭)-এর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এর আগে পরিবারের কর্তা কালাম মিয়া (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং তাকে আগেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কালাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কাঁচামালের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ভুইগড় এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার দিন সকালে রান্নাঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে জমে থাকা গ্যাস হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা করলেও ভয়াবহ দগ্ধ হন সবাই। স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে কালাম মিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর কয়েকদিনের ব্যবধানে একে একে সন্তানরা এবং সর্বশেষ মা সালমা বেগম মারা যান।
শনিবার সকালে চারজনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জানাজার পর তাদেরকে কালাম মিয়ার কবরের পাশেই পাশাপাশি দাফন করা হয়।
স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ভবনের গ্যাস লাইনে আগে থেকেই লিকেজ ছিল এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে বড় ধরনের এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তির উপস্থিতিতে জানাজা সম্পন্ন হয় এবং দাফনের যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়।
ভিওডি বাংলা/জা







