ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলে ২০ শিশু

দালালচক্রের প্রলোভন আর উন্নত জীবনের মিথ্যা স্বপ্নে বিভোর হয়ে সীমান্ত পেরিয়েছিল ওরা। কিন্তু গন্তব্য ‘উন্নত জীবন’ নয়, বরং হয়েছিল বিদেশের কারাগার আর শেল্টার হোম। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ভারতের পেট্রাপোল হয়ে নিজ ভূমি বাংলাদেশে ফিরেছে ২০ শিশু।
ফিরে আসা শিশুদের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে ও ৭ জন ছেলে রয়েছে। তারা মূলত বাগেরহাট, খুলনা, নড়াইল ও যশোর জেলার বাসিন্দা। ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের শুরুতে দালালদের খপ্পরে পড়ে তারা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। শিশুরা তাদের অভিভাবকদের সাথে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়লে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।
কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থার প্রচেষ্টায় তাদের পশ্চিমবঙ্গের 'কিশোলয়া' ও 'সুরকন্যা'সহ ৭টি শেল্টার হোমে রাখা হয়েছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি-বিএসএফ), পুলিশ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিশুদের বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের ইস্যু করা বিশেষ ট্রাভেল পারমিট এবং ভারতের এফআরআরও-এর এক্সিট পারমিটের মাধ্যমে এই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, দেশে ফেরত আসা শিশুদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুদের ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’, মহিলা আইনজীবী সমিতি ও ‘রাইটস যশোর’ নামের মানবাধিকার সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংস্থাগুলো তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে।
দীর্ঘ বিচ্ছেদ শেষে সন্তানদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছেন স্বজনেরা।
ভিওডি বাংলা/জুবায়ের হোসেন/আ







