• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৮ মে ২০২৬, ০৪:১৮ পি.এম.
রাজধানীর বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্য।ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে সবজি ও ডিমের বাজারে অস্থিরতা নতুন করে ভোগান্তিতে ফেলেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। অধিকাংশ সবজিই এখন ৮০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর খিলক্ষেতসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজির দামই চড়া। বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। কাঁকরোল ও গোল বেগুনের দাম ১২০ টাকা। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসার কেজি ১২০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

এছাড়া করলা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গার দামও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। এসব সবজির বেশিরভাগই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। ধুন্দল প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৫০ টাকা হলেও লাউ প্রতি পিস ৭০ টাকা এবং জালি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা মরিচের দামও এখনও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নামেনি। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। পেঁপের কেজি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে আসা খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা জগন্নাথ বলেন, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত সবজি কেনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, কিছুদিন আগেও যেসব সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেত, সেগুলোর দামও এখন অনেক বেড়ে গেছে।

তার ভাষায়, “বাজারে এখন ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যায় না। পেঁপেও এখন ৮০ টাকা কেজি। শসা, বেগুন, কাঁকরোল-সবকিছুর দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

সবজি বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি তাদের। খিলক্ষেত বাজারের এক বিক্রেতা আনিস জানান, গ্রামাঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি আসছে না। ফলে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি থাকছে।

তিনি বলেন, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। মোকাম থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে খুচরা বাজারে চাপ পড়ছে।”

সবজির পাশাপাশি অস্থির হয়ে উঠেছে ডিমের বাজারও। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে ডিমের দাম। বর্তমানে লাল ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায়।

ডিম বিক্রেতারা বলছেন, খামার পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

এক বিক্রেতা রাশেদ বলেন, “পাইকারিতে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করছি। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে।”

মুরগির বাজারে সোনালি মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও অন্যান্য জাতের মুরগির দাম বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮০ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি ৩৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে মাংসের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা রয়েছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

শুধু সবজি বা প্রাণিজ পণ্য নয়, অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। বাজারে চিনি কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খোলা আটা ও ময়দার দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খোলা আটা ৫৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারেও দেখা গেছে বাড়তি দাম। বিশেষ করে এলাচের দাম এক ধাক্কায় কেজিতে প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে এলাচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকায়।

ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বাড়লো শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখার সময়
ঈদুল আজহা বাড়লো শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখার সময়
লিটারে ২১ টাকা কমলো জেট ফুয়েলের দাম
লিটারে ২১ টাকা কমলো জেট ফুয়েলের দাম
বাজেট অধিবেশন শুরু ৭ জুন
বাজেট অধিবেশন শুরু ৭ জুন