• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

অস্ত্রধারী চক্রের নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি, তালিকায় ১৪৮ সন্ত্রাসী

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৮ মে ২০২৬, ০২:০৫ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর চাঁদাবাজির চিত্র এখন আর শুধু ফুটপাত বা ছোটখাটো দখলদারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র, যারা নগরজুড়ে ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাম্প্রতিক তালিকায় অন্তত ১৪৮ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে, যারা সরাসরি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এসব চক্র বিভিন্ন এলাকায় দখল, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভাড়াটে খুনের মতো অপরাধও পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের তথ্যে বলা হয়েছে, ফুটপাত, বাজার, পরিবহন স্ট্যান্ড, ঝুট ব্যবসা, নির্মাণ প্রকল্প এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে তারা।

ডিএমপি জানিয়েছে, গুলশান, বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ও মহাখালী এলাকায় এসব চক্র সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় দখল করে গড়ে ওঠা মাছের বাজার থেকেই প্রতিদিন লাখো টাকা চাঁদা তোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুলশান ও বনানীতেও ফুটপাত, কাঁচাবাজার এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। চাঁদা না দিলে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ এমনকি হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুলশান-১, গুলশান-২ ও শাহজাদপুর এলাকায় ফুটপাতের দোকান থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের তথ্য পুলিশের তালিকায় উল্লেখ আছে।

এছাড়া গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার থেকেও মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুধু গুলশান-বাড্ডা নয়, ডেমরা, শ্যামপুর, ওয়ারী, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, চকবাজার, সবুজবাগ, খিলগাঁও, পল্টন, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পল্লবীতেও একই ধরনের অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় রয়েছে। কিছু এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও এ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কয়েকটি পরিচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ—জিসান গ্রুপ, কলিং মেহেদী গ্রুপ, রবিন-ডালিম-মাহবুব গ্রুপ, সুব্রত বাইন বাহিনী এবং মোল্লা মাসুদের নেটওয়ার্ক। এদের অনেক নেতা বিদেশে অবস্থান করলেও সেখান থেকেই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

ডিএমপির তালিকায় উল্লেখ রয়েছে, জিসান গ্রুপ গুলশান, বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ও মহাখালী এলাকায় সক্রিয় এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ প্রকল্প থেকে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত।

অন্যদিকে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদের বাহিনীও এসব এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। কলিং মেহেদী গ্রুপ বাড্ডা, গুলশান ও মহাখালী এলাকায় দখলবাজি ও ভাড়াটে খুনে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কলিং মেহেদী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

রবিন-ডালিম-মাহবুব গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বাড্ডা, গুলশান-১, গুলশান-২ ও শাহজাদপুর এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই গ্রুপের শীর্ষ নেতারা মালয়েশিয়ায় থাকলেও তাদের অনুসারীরা দেশে চাঁদাবাজি ও দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বাড্ডা এলাকায় সক্রিয় চঞ্চল গ্রুপ নিয়েও তথ্য দিয়েছে পুলিশ। এই গ্রুপের প্রধান দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন।

এছাড়া ডেমরা, শ্যামপুর, ওয়ারী, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, চকবাজার, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ, পল্টন, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ এলাকাতেও পৃথক সন্ত্রাসী চক্র চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে।

এর মধ্যে ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় ইমন গ্রুপ এবং মোহাম্মদপুরে পিচ্চি হেলাল গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, শাহজাহানপুর, লালবাগ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় একাধিক অস্ত্রধারী গ্রুপ চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছে।

এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম ছয় দিনেই ১৪৫ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও তাদের ২৫৬ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফুটবলের জন্য আমার ভালোবাসা অনন্ত: আবদুস সালাম
ফুটবলের জন্য আমার ভালোবাসা অনন্ত: আবদুস সালাম
সংবেদনশীল কল ডিটেইলস ও এনআইডি তথ্য বিক্রি: অ্যাপ ডেভেলপার গ্রেপ্তার
সংবেদনশীল কল ডিটেইলস ও এনআইডি তথ্য বিক্রি: অ্যাপ ডেভেলপার গ্রেপ্তার
বাসস্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
বাসস্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ