ধর্মীয় মনীষীদের আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে: আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ধর্মীয় মনীষীদের আদর্শ অনুসরণ করলে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হবে এবং সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ কমে এলে দেশ ও সমাজ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে শ্রী শ্রী মা আনন্দময়ীর ১৩১তম আবির্ভাব উৎসব-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘নির্মলা থেকে আনন্দময়ী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ জীব হলো মানুষ। মানুষের মধ্যে যত হিংসা-বিদ্বেষ কমে আসবে, ততই আমরা দেশ ও সমাজকে সুন্দর করতে পারব। তাই আমাদের উচিত ধর্মীয় মনীষীদের জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যৎ জীবন আরও সুন্দর ও সুখকর হয়।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে যেসব মনীষীর আবির্ভাব হয়েছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করেননি; তারা কাজ করেছেন মানবতার কল্যাণে। শ্রী মা আনন্দময়ীর জীবন ও আদর্শও মানবকল্যাণ, সহমর্মিতা ও অহিংসার শিক্ষাই দেয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, কোনো ধর্মের মনীষীরাই কখনো খারাপ কাজের কথা বলেননি। তারা সবসময় মানুষকে ভালো উপদেশ দিয়েছেন। মানব সভ্যতার ক্ষতি হতে পারে—এমন কোনো শিক্ষা তারা দেননি।
বর্তমান সমাজে মানবিক অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ মানুষকে সাময়িক হলেও লোভ, লালসা ও হিংসা থেকে দূরে রাখে এবং আত্মসমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, আমরা কোন ধর্মের অনুসারী সেটি বড় কথা নয়, বড় কথা হলো আমরা মানুষ। মানুষের মধ্যে বিশ্বাস, সহমর্মিতা ও অহিংস বোধ জাগ্রত হওয়া জরুরি।
আবদুস সালাম আরও বলেন, শ্রী মা আনন্দময়ীর মতো মহীয়সী ব্যক্তিত্বদের আদর্শ যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাঁদের মানবিকতা, অহিংস জীবনাচরণ ও ভালো কাজ সমাজকে আলোর পথ দেখাবে।
সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সরকারের এখনও মাত্র দুই মাস পূর্ণ হয়নি। জনগণের সহযোগিতা নিয়েই এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে সরকার আরও ভালো কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে প্রতিমা আনার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই এবং প্রয়োজন হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও সহযোগিতা করবেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। এই দেশে আমার যতটুকু অধিকার আছে, আপনাদেরও ততটুকু অধিকার আছে। সমঅধিকার নিয়েই আমরা সবাই বাঁচব।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন চন্দ্র মজুমদার, ট্রাস্টি শ্রীনিবাস চন্দ্র মাঝি, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক শ্রী দিলীপ আগরওয়াল এবং ইস্পাহানি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মারুফি খান।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এফএ







