হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল

দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী বিভিন্ন সময় সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনের পেছনে মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম রয়েছে। তাই নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।
শুক্রবার (৮ মে) পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নওগাঁ জেলা প্রশাসন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অতীতে বহুবার মানুষ পরিবর্তনের আশায় আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।
কিন্তু নানা কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বর্তমানে আবারও একটি মহল সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল শক্তি ও পরিচয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিহিত। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। একইভাবে গণতন্ত্রও মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ফিরে এসেছে। তাই দেশের মানুষের উচিত স্বাধীনতার মূল্য ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনেও তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জুলাই মাসে তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধভাবে যে আন্দোলন করেছে, তা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। জনগণ নতুন সরকারের প্রতি আশাবাদী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তারা দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ব্যাংক খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান লুটপাটের শিকার হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে দেশকে পুনর্গঠনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ আর কোনো সংঘাত বা সহিংস পরিস্থিতি দেখতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্ম ও দর্শন নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, কবিগুরু কেবল সাহিত্যচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; কৃষক ও গ্রামীণ সমাজের উন্নয়ন নিয়েও কাজ করেছেন। পতিসরে এসে তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা কাছ থেকে দেখেছিলেন এবং তাদের আর্থিক সহায়তার জন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পাশাপাশি কৃষিকে আধুনিক করতে নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদের উদ্যোগও নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের বিস্তৃতি ছিল অসাধারণ। কবিতা, গান, নাটক, গল্প, প্রবন্ধ-সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজস্ব প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে ‘গীতাঞ্জলি’ রচনার মাধ্যমে তিনি বিশ্বসাহিত্যে অনন্য মর্যাদা অর্জন করেন এবং বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলেন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল বাঙালির কবি নন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি। তার সাহিত্য ও দর্শনের গভীরতা এতটাই ব্যাপক যে সারাজীবন পড়লেও তাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ। এতে আরও বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীরা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। দিনভর কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
ভিওডি বাংলা/জা







