বিজয়ের বিশাল জয়, মসনদ হারালেন মমতা

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে)। অন্যদিকে দীর্ঘ ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মসনদ হারালো মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।
সোমবার (৪ মে) সকাল আটটায় পাঁচটি রাজ্যে ভোট গননা শুরু হয়। বিকাল নাগাদ শেষ হয় গননা।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে মোট ২৩৮ আসনের মধ্যে ১০৮টি পেয়েছে থালাপতির টিভিকে। এডিএমকে ৫০ ও ডিএমকে পেয়েছে ৭৫টি।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২০৪টি আসন। বিপরীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জয় লাভ করেছে ৮৩টি আসনে। এছাড়া কংগ্রেস ২, সিপিএম ১ এবং অন্যরা ৩টি আসনে জয় লাভ করেছেন।
এছাড়া পুদুচেরি-তে ৩০টি আসনের মধ্যে শাসক দল অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস ইতিমধ্যে ১৭টি আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার পথে এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছেন থালাপতি বিজয়। প্রথম ভোটেই বাজিমাত করলেন এই তামিল সুপারস্টার। এর মধ্যদিয়ে তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিজয় যদি সরকার গঠন করতে পারেন, তবে তিনি প্রায় পাঁচ দশক পর প্রথম অভিনেতা-রাজনীতিবিদ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হবেন। আর যদি তা না-ও হয়, তবুও তিনি প্রমাণ করেছেন যে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি নতুন শক্তির উত্থান এখন আর অসম্ভব নয়।
অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দুর্গ ইতিহাস গড়েছে নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্য বিজেপির নেতাকর্মীরা বিজয় উদযাপন করছেন।
বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে’—যা বিজেপির নির্বাচনি প্রতীক ‘পদ্মফুল’-এর প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এমন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন ‘চিরকাল মনে রাখা হবে’। তার কথায়, ‘নির্বাচনে জনতার শক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি সফল হয়েছে।’
বিজেপির এই জয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিককে প্রণাম জানাই। মানুষ বিজেপিকে এক অসাধারণ ও শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছে।’
তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, বিজেপি সরকার গঠন করলে রাজ্যের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। আমরা এমন একটি সরকার গড়ব, যা সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুতে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং পুদুচেরিতে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে ভারতের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এফএ







