পাবনা প্রেসক্লাবের জায়গার সমস্যা সমাধানে ভূমিমন্ত্রীর আশ্বাস

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ৬৫ বছর বয়সী পাবনা প্রেসক্লাবের জায়গা নিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে পাবনা প্রেসক্লাবের আবেদন রয়েছে৷ সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আমরা একটা বরাদ্দও দিবো। সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীও কিছু বরাদ্দ দেবে। যাতে ঐতিহ্যবাহী পাবনা প্রেসক্লাব আরো সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
পাবনা প্রেসক্লাবের ৬৫ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তিনদিনের বর্ণাঢ্য আয়োজনের দ্বিতীয়দিন বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ভূমি মন্ত্রী বলেন, পাবনা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা উপমহাদেশের মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। এ জেলায় অনেক গুণী মানুষের জন্ম। যাদের নিয়ে আমরা গর্বিত। জেলার সাংবাদিকরাও তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। পাবনা আমাদের শিখিয়েছে অধিকার আদায়ের, সংগ্রাম করার। পাবনা হলো রাজশাহীর একই বৃন্তে যেন দুটি পাতা।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, প্রতিদিন দেশকে নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা সততা নিষ্ঠা দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। যমুনা ব্রিজ হওয়ার পর পাবনা পিছিয়ে গেছে কিছুটা। আগামীতে যুদ্ধ হবে নিরাপদ মিষ্টি পানি নিয়ে।
এন্ট্রি ফারাক্কা হিসেবে পদ্মা যমুনা ব্যারেজকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তখন বদলে যাবে পাবনার ভাগ্য। সবাই দোয়া করবেন আমরা যেন সবাই একসাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর বাংলাদেশ নতুন প্রজন্মকে দিতে পারি৷
এর আগে জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর পাবনা প্রেসক্লাবের প্রয়াত সদস্য ও শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
এরপর পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম।
উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সম্মানিত জীবন সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। প্রধান বক্তা ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফরজানা শারমিন পুতুল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান, বিশিষ্ট কবি ও ইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানী হোসেন। প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিকরা অতিথিদের কাছে পাবনা প্রেসক্লাবের জায়গাটি ক্লাবের নামে বরাদ্দ দেবার দাবি তুলে ধরেন।
নিজের বক্তব্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, আমি যেমন নাটোরের মেয়ে তেমনি পাবনারও মেয়ে। সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যারা দেশের জন্য সুনাম আনতে পারেন আবার দুর্নামও আনতে পারেন। আমরা একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছি। বর্তমা প্রধানসন্তৈী একটি ইতিবাচক পরিবর্বতেনর লক্ষে কাজ করছেন। এই কাজের পেছনে সাংবাদিকদেরও অনেক বড় ভুমিকা রয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী একটি প্রেসক্লাব, চারটি খানি কথা নয়। এটি নি:সন্দেহে বাংলাদেশের মধ্যে অনুসরনীয় ও অনুকরণীয়।
প্রতিমন্ত্রী পুতুল বলেন, বাংলাদেশ যে কিছু অপসাংবাদিকতা শুরু হয়েছে তা দেশের উন্নয়নে বড় একটি বাধা। অপ-সাংবাদিকতা রুখতে আপনাদেরই ভুমিকা রাখতে হবে আগে। আপনারা আওয়াজ তুলুন। সরকার চেষ্টা করছে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদেন সম্মানিত করতে চাই। সরকারের কোনো ভুল হলে ধরিয়ে দিন। সরকারের ভাল কাজগুলো দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, অনেক কৃতি মানুষের বসবাস পাবনায়। যাদের নিয়ে আমরা গর্ব করি। এই মাটি উর্বর মাটি। দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি। আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সাংবাদিকদেরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, প্রফেসর শিবজিত নাগ, জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, ক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি ছিফাত রহমান সনম, সহ সভাপতি এস এম আলাউদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক উৎপল মির্জা, এস এ আসাদ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঁখিনূর ইসলাম রেমন ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেল।
শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে গান পরিবেশন করে মুগ্ধ করেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা মুহিন, লিজা, মুক্তা।
ভিওডি বাংলা/এম এস রহমান/আ







