• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা, গ্রেপ্তার হিশাম

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ এ.এম.
গ্রেপ্তার হওয়া হিশাম আবুগারবিয়েহ: ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার অতীত আচরণ, অপরাধ সংশ্লিষ্টতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে উঠে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহ নিহত জামিল আহমেদ লিমনের সাবেক রুমমেট ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের অভিযোগ থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত জামিল আহমেদ লিমন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন হিশাম। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় হিশাম আর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ছিলেন না। তবে শিক্ষাজীবনের সময় থেকেই তার আচরণ নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হিশামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। তবে বৃষ্টির মরদেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে হিশামের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও এসব অপরাধ তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, তবে তার সহিংস প্রবণতার ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।

এছাড়া তার পরিবারের এক সদস্য তার বিরুদ্ধে ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ইনজাংশন’ বা পারিবারিক সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেন। এর মধ্যে একটি আদালত মঞ্জুরও করে। বিষয়টি তার ব্যক্তিগত জীবনে সহিংস আচরণের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ হিসেবে গণ্য হয়।

এছাড়া তাকে প্রাথমিকভাবে আরও কয়েকটি অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখা, অবৈধভাবে মরদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অবৈধ আটকে রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতা।

হিলসবরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশা করছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প, ইরান ইস্যুতে নতুন টানাপোড়েন
পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প, ইরান ইস্যুতে নতুন টানাপোড়েন
মার্কিন প্রতিনিধি দল পৌঁছানোর আগেই পাকিস্তান ছাড়লেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কিন প্রতিনিধি দল পৌঁছানোর আগেই পাকিস্তান ছাড়লেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দস্যুদের কবলে তেলবাহী জাহাজ, জিম্মি ১১
দস্যুদের কবলে তেলবাহী জাহাজ, জিম্মি ১১