অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাদান

কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলায় একটি মাত্র সরকারি হাসপাতালে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বাথরুমের দুর্গন্ধে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি চরমে। যেখানে - সেখানে ময়লা-আবর্জনা, রয়েছে শয্যা সংকট। নার্সদের দুর্ব্যবহার তো রয়েছেই। হাসপাতালের জরাজীর্ণ অবকাঠামো, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চিকিৎসক-নার্স সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব দেখে মনে হয় যেন হাসপাতাল নিজেই “অসুস্থ” বা “রোগী”।
শৌচাগারগুলোর অধিকাংশের পরিবেশও নোংরা। কোনোটির সিটকিনি নেই, লাইট নষ্ট। আবার কোনোটির দরজার নিচের অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকজন রুগি বলেন, উপযোগী না থাকায় তারা হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবহার করতে অসুবিধা হচ্ছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের অভিযোগ, শয্যা সংকটে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে রোগীদের। অনেকেরই ঠাঁই হচ্ছে বারান্দা অথবা মেঝেতে। শয্যার পাশাপাশি ওষুধ, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার আর আবর্জনার দুর্গন্ধ। অধিকাংশ সময় ট্যাপে থাকছে না পানি।

গত সপ্তাহে হাসপাতালে ৪ দিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় । চরম দুর্ভোগে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৯ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তখন রোগীর খাবার ও ওষুধের অনুমোদন দেওয়া হলেও চিকিৎসকের পদ ফাঁকা ছিল। ২০২১ সালে তা অনুমোদিত হয়। সম্প্রতি তাদের কয়েকজন যোগ দিয়েছেন। এখনও হাসপাতালটির ২৭৮ পদের মধ্যে ১১৮টিই খালি। ৩৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৬টিই শূন্য। ৪৪টি সেবিকা পদ থাকলেও রয়েছে ৫টি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ১৫২টির মধ্যে ৪৬টি ও চতুর্থ শ্রেণির ৩০টি পদের মধ্যে ২৮টি শূন্য। আউটসোর্সিংয়ের ১৯ পদের সবই শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালে সূত্র থেকে জানা যায়, ৫০ জন রোগীর ধারনের ক্ষমতা থাকলেও ভর্তি থাকে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০ জন রুগী। জনবল সংকটের কারণেই ভুগতে হচ্ছে হাসপাতালটি। পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাত না থাকার কারণে অনেক কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না।
সাম্প্রতিক তীব্র গরমে হাসপাতালে প্রায় প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে শয্যা সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ রোগী। এদের বেশির ভাগই ঠান্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত। তাদের সেবা দিতে গিয়ে।
হাসপাতালে ভর্তি সুরভী খাতুন বলেন, কুমারখালী হাসপাতালের যে' অবস্থা, তারা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। এখানে বাথরুমের দরজা নেই। পানির সমস্যা, নার্সদের দুর্ব্যবহার, ঠিক মতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না।
আসলাম নামে এক যুবক রিপন হোসেন বলেন, কুমারখালী হাসপাতালে যে, পানি নেই এটা বলার ভাষা নেই। কি -যে অবস্থা আমাদের। দেখার কেউ নেই। হাসপাতালে থাকতে ভালো মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।
কুষ্টিয়ায় সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, কোন কিছুর অভিযোগ থাকলে অবশ্যই লিখিত আকারে দেয়া হলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। হাসপাতালে অবকাঠামো উন্নয়নের পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমরা এই মুহূর্তে তা করতে পারছি না। সেসঙ্গে চরম জনবল সংকটে রয়েছে হাসপাতালটি যার কারনে স্বাস্থ্য সেবাটা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবা দিলে রোগী সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ভিওডি বাংলা/মোশাররফ হোসেন/আ







