• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রাউজানে ফের গুলি করে হত্যা, লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি    ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৫ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে দুই মাসের ব্যবধানে আবারও গুলি করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা লাশ নিয়ে রাউজান-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৬) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, নিহত বাবলু বিএনপির কর্মী ছিলেন। তবে তার পরিবার ও জেলা বিএনপির নেতারা জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না; দিনমজুরের কাজ করতেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নানাবাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৭–৮ জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বাবলুর পরিবারে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। পরিবারের দাবি, এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় গত দুই বছরে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। নিহতের বাবা আবুল কালাম বলেন, “প্রতিবাদী ভূমিকার কারণেই আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাবলুর লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও খাটিয়া দিয়ে সড়ক অবরুদ্ধ করা হয়। শত শত নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে খুনিদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মো. জসিম বলেন, বাবলুর বড় ভাই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বাবলু নিজে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। একই দাবি জানান সংগঠনটির সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল।

রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বাবলু হত্যার ঘটনায় এলাকায় আবারও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এর আগে, ৫ জানুয়ারি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারের ৫০০ মিটার দূরে মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামের এক যুবদল নেতাকে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি একই এলাকায় আবদুল মজিদ (৫০) নামে আরেক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

ভিওডি বাংলা/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
লালদীঘিতে বাঘা শরীফের হ্যাটট্রিক
লালদীঘিতে বাঘা শরীফের হ্যাটট্রিক
লক্ষ্মীপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রীর মতবিনিময়
লক্ষ্মীপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রীর মতবিনিময়
চট্টগ্রামে যুবককে গুলি করে হত্যা
চট্টগ্রামে যুবককে গুলি করে হত্যা