রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি
স্বজনের হাতে ফুল, চোখে জল, কণ্ঠে বিচারের দাবি

স্বজনরাও জানেন তারা ফিরবেন না। কথা হবে না, দেখা হবে না, কোনো স্পর্শও না। তবু স্মৃতির আনাগোনায় ভারী হয়ে ওঠে চোখের পাতা প্রতিদিনই। ভীষণ শূন্যতা অনুভব হয় হারানো সেই মানুষটি ঘিরে।
বলা হচ্ছে সেই মানুষগুলোর কথা- যারা হারিয়ে গেছেন রানা প্লাজা ট্রাজেডির নির্মম এক গল্পের মোড়কে। সেই ১ হাজার ১৩৮ জন পোশাক শ্রমিক আর ফিরবে না কোনোদিন, এটাই চরম সত্য।
সেই ট্রাজেডির দিনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নিহতদের স্বজনেরা ফুল হাতে চোখে জল নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন সাভারের অস্থায়ী বেদিতে। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারা, বেদির সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জলে স্মরণ করেছেন হারানো স্বজনদের। কত স্মৃতি মনে পড়ে গেছে পলকে- তাইতো ভেঙে পড়েছিলেন কান্নায়। যেন হারানো সেই স্বজনের সঙ্গে কত কথা বাকি রয়ে গেছে বলা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে বিক্ষোভ মিছিল করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা। রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন দাবিতে এ মিছিল করা হয়। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় এখনো আহত ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি। রানা প্লাজার আহত শ্রমিকেরা চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১২১ অনুসারে নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করতে হবে।
বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দ ব্যাপারী বিন্দু বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের ১২ বছরেও দোষীদের বিচার দেখতে পাইনি। আগের সরকার বিচারের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু বিচার হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ন্যায্য দাবিগুলো যেন পূরণ করেন তাঁরা।’
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ, গার্মেন্টস শ্রমিক টেক্সটাইল ফেডারেশন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার, গ্রামীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনসহ নানা শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও আহত শ্রমিকেরা অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
২০১৩ সালের এই দিনে ঢাকার সাভার বাসস্ট্যান্ডের অদূরে রানা প্লাজা ধসে নিহত হন ১ হাজার ১৩৮ জন। আহত হন অনেকে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস







