লেবানন-ইসরায়েল শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করবে যুক্তরাষ্ট্র

দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে লেবানন ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বহুল প্রত্যাশিত বৈঠক।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচনায় অংশ নিতে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং সেখানে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
গত ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে পাল্টা হামলা শুরু করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে এবং লেবানন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘাতের ফলে লেবাননে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও আলোচনায় অংশ নেবেন।
তবে এই উদ্যোগ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে সোমবার এই আলোচনাকে ‘নিরর্থক’ বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র দেখতে চায়, এবং এই অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রও সমর্থন করছে।
তবে হিজবুল্লাহ ধারাবাহিকভাবে তাদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের মতে, এমন শর্ত মেনে নিলে লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার পথ তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এতে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েশিয়েল লাইটার এবং লেবাননের পক্ষে রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মাওয়াদ অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, কয়েক দশক পর এটি দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা। এর আগে সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৩ সালে।
সূত্র: ডয়েচেভেলে
ভিওডি বাংলা/এমএস







