• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নববর্ষে নতুন শপথ:

পরিচ্ছন্ন, আলোকিত ও মশামুক্ত ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪২ এ.এম.
আহসান মঞ্জিল প্রাঙ্গণে ডিএসসিসির উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আবদুস সালাম: ছবি-ভিওডি বাংলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ‘আজকে একটা আনন্দের দিন। এক বছর পার হয়ে আমরা নতুন বাংলা বর্ষে পদার্পণ করলাম। গত বছরের জরা-জীর্ণ যা কিছু আছে, তা ধুয়ে-মুছে ফেলে সামনে বছরটাকে আমরা সুন্দর করতে চাই।’

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল প্রাঙ্গণে ডিএসসিসির উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

আবদুস সালাম বলেন, ‘আজকে একটি মিলনমেলা। আমরা সবাই এখানে একত্রিত হয়েছি। সিটি করপোরেশন আমাদের একটি পরিবার। আমরা নিজেরাই নববর্ষ বরণ করছি, নিজেরাই উদযাপন করছি-যাতে নতুন বছরে নতুন উদ্দীপনায় কাজ করতে পারি।’

অনুষ্ঠানে তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সুন্দরভাবে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। সিটি করপোরেশনের সচিবসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হালকা রসিকতা করে বলেন, সারাবছর কাজের চাপের মধ্যে থাকলেও মাঝে মাঝে আনন্দের প্রয়োজন রয়েছে। ‘আজ আমরা প্রাণ খুলে হাসব, গান গাইব, একসঙ্গে খাব। তারপর আবার আগামীকাল থেকে যার যার কাজে ফিরে যাব,’ বলেন তিনি।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজ ২৪ ঘণ্টার। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই এমন আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।

তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে আমরা শপথ নেব-গত বছরের ভুলত্রুটি ভুলে গিয়ে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাব। এটাই পহেলা বৈশাখের শিক্ষা।’

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজের গতি বেড়েছে। ‘অনেক সময় শুক্র-শনিবারও আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। ছুটি কিছুটা কমলেও দেশের কাজের জন্য এটাকে আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখি।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশক নিধন কর্মীদের উৎসাহিত করতে বোনাস দেওয়া হয়েছে। ‘তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কষ্টের কাজ করেন। তাদের ভালো রাখলে কাজের মানও বাড়বে,’ বলেন তিনি।

সামনে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এখন থেকেই নগর পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি-ঢাকা শহরকে পরিষ্কার, আলোকিত ও মশামুক্ত করব। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।

হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যেমন শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে ভাবছে।

নিজের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় কঠিন কথা বলতে হয়। যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা সবাই মিলে সফল হলে সেই সাফল্য সবার হবে।’

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে নগরবাসী ডিএসসিসির কাজের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করছে। শহর কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে, মশার উপদ্রবও কমেছে।

পরিশেষে, অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আহসান মঞ্জিল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। উপস্থিত সকল অতিথির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, ঐক্য, সংস্কৃতি ও নবজাগরণের চিরন্তন প্রতীক
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, ঐক্য, সংস্কৃতি ও নবজাগরণের চিরন্তন প্রতীক
বৈশাখী শোভাযাত্রায় প্রাণের উচ্ছ্বাস, সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেওয়ার শপথ
বৈশাখী শোভাযাত্রায় প্রাণের উচ্ছ্বাস, সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেওয়ার শপথ
বর্ষবরণে গান-নৃত্যে মুখর ঢাবির বটতলা
বর্ষবরণে গান-নৃত্যে মুখর ঢাবির বটতলা