সরকারি খাল দখল নিয়ে আ. লীগ-বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ৭

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি খালের দখল ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার খুঁটিকাটা–কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন সকালে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় তাদের বাধা দিলে আজহারুল ইসলামের সমর্থকদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলে বিএনপির কিছু কর্মীও জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপি কর্মী কবির হোসেন (২৬) এবং জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মীসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন দাবি করেন, সংক্রান্তির খালের পূর্বের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন ইজারা কার্যকর না থাকায় স্থানীয় দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি খালটির পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছেন এবং সেখানে মাছ চাষ কার্যক্রম চলমান ছিল। তার দাবি, জামায়াতের একটি পক্ষ রড ও শাবল নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সরকারি খালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ভিওডি বাংলা/এমএস







