• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
পরীক্ষা পদ্ধতি ঢেলে সাজাতে 'উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স' গঠনের ঘোষণা মোদির রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির পাঁচ শীর্ষ নেতা ভারত সিরিজ ঘিরে আশাবাদী মিরাজ, সম্পর্ক স্বাভাবিকে তৎপর বিসিবি অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, সাবেক জেল সুপার ও স্ত্রীকে ঘিরে দুদকের অনুসন্ধান স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারিয়াকান্দিতে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে মানববন্ধন দলীয় ব্যক্তির নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য হুমকি: জামায়াত গাড়ি কেনার নেশায় প্রথম সিনেমায় ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন রাকুল প্রীত সিং ‘মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে’ বাস্তবায়নে উদ্যোগ, সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি দেখছে সানেম

  নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৭ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তার উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)–এর দাম বেড়ে গেলে প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ বাড়বে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সানেম জানায়।  

সম্ভাব্য এই প্রভাব বিশ্লেষণে তারা গ্লোবাল ট্রেড অ্যানালাইসিস প্রজেক্টের কম্পিউটেবল জেনারেল ইকুইলিব্রিয়াম (সিজিই) মডেল ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করা এই বিশ্লেষণে দেখা যায়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সানেমের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়বে। এতে প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি প্রায় ২ শতাংশ এবং আমদানি প্রায় দেড় শতাংশ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা শিল্পখাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত-যা দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস-এবং কৃষি উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাবে। বাস্তব মজুরি প্রায় ১ শতাংশ কমতে পারে, যা সরাসরি মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি ও নির্ভরতার বাস্তবতা

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটগুলোর একটি Strait of Hormuz যদি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

সানেম বলছে, দেশের প্রায় ৭২ শতাংশ এলএনজি আমদানি আসে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। এই নির্ভরতা বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি প্রধান পথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সানেম। এগুলো হলো-

জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা।

এই তিনটি ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া (chain reaction) দেখা দিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে সানেম। একদিকে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং জ্বালানি রেশনিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সরকারি ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির এই অমিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সানেম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে-

১. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর:
জমি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সবচেয়ে কার্যকর নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসগুলো দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।

২. বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ:
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট ও বড় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

৩. আর্থিক প্রণোদনা:
করমুক্ত সরঞ্জাম, সহজ শর্তে ঋণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস করে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

৪. জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য:
স্বল্পমেয়াদে তেল, এলএনজি ও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বহুমুখী চুক্তি ও নতুন উৎস খুঁজতে হবে।

৫. কৌশলগত মজুত গঠন:
অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির জন্য একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক ন্যাশনাল রিজার্ভ’ গড়ে তোলা জরুরি, যাতে বৈশ্বিক সংকটে সরবরাহ বজায় রাখা যায়।

৬. জরুরি ব্যবস্থাপনা:
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ডিজিটাল পদ্ধতিতে জ্বালানি রেশনিং, শিল্প উৎপাদন অফ-পিক সময়ে সরিয়ে নেওয়া এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সময় সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহিত
টানা দুই দফা বৃদ্ধির পর এবার স্বর্ণের দামে বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা, ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল
ছবি: সংগৃহীত
৮০০ কোটি টাকায় ‘সুইস টাওয়ার’ কিনছে পূবালী ব্যাংক