হাসিনাকে খুশি করতেই কিশোরদের হত্যা করা হয়- রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশ ও দেশের মানুষ নয় শেখ হাসিনাকে খুশি করতে হবে এই ব্রত নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ঠুর রক্তাক্ত পথ অবলম্বন করেছিল। তারা প্রথমে স্কুল-কলেজের কিশোরদের হত্যা করেছিল। তাই তো মানবাধিকার সংস্থার এক জরিপে উঠে এসেছে জুলাই-আগস্ট এর প্রতিটা গুম খুন শেখ হাসিনার নির্দেশে করা হয়েছে। শিশু বাচ্চাদের হত্যা করে এত বড় যে অন্যায় করল, এত বড় অপরাধ করল তাদের রক্তাক্ত লাশ দেখেও শেখ হাসিনাকে বিন্দু পরিমাণ বিচলিত দেখা যায় নাই; বরং তিনি মনে করছেন তার সম্পত্তি হারিয়ে গেল।
তিনি বলেন, এই দেশের সন্তানদের পেটুয়াবাহিনী তার নির্দেশে গুলি করে হত্যা করলো এ নিয়ে তার কোন অনুশোচনা বোধ নেই। বরং এই দেশকে আবারো দখল করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনা। তিনি যদি আবার পুনরায় ফিরে আসতে পারে তাহলে বুঝে নিবেন দেশ আর দেশ থাকবে না। দেশের মানচিত্র চলে যাবে, দেশের সীমানা চলে যাবে, এমনকি দেশের জাতীয় সংগীত চলে যাবে। যেটা রক্ষা করেছে আহানাফ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ’র মত কিশোর যুবকেরা। তাই আমরা বিশ্বাস করে আমাদের এই স্বাধীনতা আর কেউ খন্ডিত করতে পারবে না; আমাদের দরকার গণতান্ত্রিক ঐক্যে।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে গত আগস্টে শহীদ হওয়া আহনাফের বাসায় যান রুহুল কবির রিজভী। অন্তর্বর্তীকালিন সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সরকারের পাঁচ-ছয় মাস অতিবাহিত এখনও কেন হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে না। যারা জুলাই-আগস্টে অপকর্ম করেছে; তাদের বিচারে কেন এত গড়িমসি হয়।
নিহত আহানাফের বাবার হাতে কিছু আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে রিজভী বলেন, আাহানাফসহ বহু কিশোর স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে জীবন দিয়েছে। একেবারে প্রাণবন্ত টাটকা কিশোররা যারা নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দেওয়ার মহান যে আত্মত্যাগ, এই আত্মত্যাগ কে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, আহানাফের মায়ের যে কান্না, যে আহাজারী তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আহানাফের মায়ের চোখের পানি কান্না করতে করতে শুকিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ৪ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয় আহনাফ। আহনাফের যেদিন মৃত্যু হয়, তার পরদিন বাংলাদেশে এক অভিনব গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। কিন্তু অভ্যুত্থানের সফল সমাপ্তি দেখা হয়ে ওঠেনি বুলেটবিদ্ধ আহনাফের। আগস্টের বিজয়ে উদিত সূর্যের কয়েক ঘণ্টা আগে জীবনবাতি নিভে যায় তার; শহীদ হয় আহানাফ। মৃত্যু কালে আহানাফের বয়স ছিল ১৭ বছর সে রাজধানীর বিএফ শাহীন কলেজের ছাত্র ছিল।
আহানাফের বাবা বলেন, আমরা আমাদের ছেলের জন্য স্বাধীনতা পেয়েছি, বাক-স্বাধীনতা পেয়েছি।
রিজভী বলেন, এই ছেলেরা সিন্ধু, বেলুচিস্তান বা স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা নয়, এরা তো এই দেশেরই সন্তান, কি করে তার একটি ভয়ঙ্কর, রক্ত পিপাসু নাড়ীর গদী রক্ষা করার জন্য ওরা এই মাসুম বাচ্চা ছেলেদের গুলি করতে দ্বীধা করলো না, এদের টাকার এতোই প্রয়োজন ছিল, শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার এতোই প্রয়োজন ছিল। এমনিতেই তো বুক কেঁপে ওঠে এই বাচ্চাদের দিক হাত তুলতে, তাদের বুক কাঁপলো না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা জানতো, এই মাসুম বাচ্চাদের হত্যা করলে তার জন্য পুরস্কার আছে, মাসুম বাচ্চা কিশোরদের হত্যা করলে প্রমোশন আছে, পদমর্যাদা আছে, অনেক টাকা পাবে।
ভিওডি বাংলা/দেবরাজ/এম







