নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা হত্যা, জামায়াত কর্মী এবাদুল্লাহ আটক

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে।
এর প্রেক্ষিতে নরসিংদী জেলা পুলিশ আমেনা হত্যার মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে মাওনা, গাজীপুর এবং আরেক অভিযুক্ত হযরত আলীকে গৌরীপুর, ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে মহিষাসুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী, যাকে ইতিমধ্যে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে, এবং জামায়াত কর্মী এবাদুল্লাহকেও আটক করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। আলোচিত এ ঘটনায় ০৪ ধর্ষকসহ মোট ০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহত আমেনা আক্তার মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতো। তার সৎ বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন শ্রমিক।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিন আগে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন আমেনাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মহিষাসুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আহমদের মধ্যস্থতায় ঘটনাটি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন জানান, বুধবার রাতে নিরাপত্তার খাতিরে তিনি আমেনাকে তার খালার বাড়িতে রেখে আসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে বখাটে নূরা ও তার ৫ সহযোগী তাদের গতিরোধ করে। তারা জোরপূর্বক তার কাছ থেকে আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওই রাতে তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরদিন সকালে স্থানীয়রা একটি সরিষা ক্ষেতে আমেনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করা হয়েছে।
নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এ ব্যাপারে নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. শিরিন আক্তার শেলী বলেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই, আমরা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবো।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষিতা আমেনার সৎ বাবা আশরাফ ২০১১ সালে আরও একটি ধর্ষণ ও হত্যা সংঘটিত করেছেন।
সে সময় দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল একটি সংবাদ—নালিতাবাড়ীতে ইজ্জত বাঁচাতে গৃহবধূ খুন। সেই গৃহবধূকে ধর্ষণ করতে গিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে হত্যা করেন আশরাফ, যিনি আমেনার সৎ বাবা। এলাকার অনেকেই মনে করেন, সৎ বাবা নিজেও তার মেয়ের প্রতি কু-দৃষ্টি দিয়েছেন এবং অন্যায় করেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দিনমজুর আশরাফ আলী এ নিয়ে তিন বিয়ে করেছেন। তার পিতাও মোট দশটি বিয়ে করেছিলেন। এর আগেও এলাকায় নারী ও চুরি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে আশরাফের বিরুদ্ধে। তিনি প্রায় এক বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের জনক।
যেহেতু এ ধরনের দুর্ঘটনা তিনি আগেও ঘটিয়েছেন, সেহেতু আমেনা হত্যার সাথেও তার হাত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হোক। অবিলম্বে পূর্বের খুনের মামলার আসামি আশরাফকে গ্রেফতার করা হোক এবং নতুন এ খুনেও সে জড়িত কিনা খতিয়ে দেখা হোক।







