শফিকুর রহমান:
ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেব

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আরসি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি দেশের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “দেশে আর কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। জামায়াত ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির ‘ঘাড় ধরে টান’ দেওয়া হবে এবং লুণ্ঠিত অর্থ ফেরত আনা হবে।” তিনি জানান, তাদের নেতাকর্মীরা ৫ আগস্টের পরও কোনো প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড করেননি এবং সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, “ভবিষ্যতে আমাদের শাসনে বিচার হবে সবার জন্য সমান। রাষ্ট্রপতি হোক বা সাধারণ নাগরিক-অপরাধ করলে সবাই একই আইনের মুখোমুখি হবে।” তিনি নারী ও মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, “প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু কোনো মায়ের ইজ্জত যেতে দেব না। আমরা দেশে মা-বোনদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।”
শফিকুর রহমান দেশের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে তুলে ধরেন, “দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যারা নিজেদের লুণ্ঠন করেনি, কেবল তারাই এই টাকা ফেরত আনতে পারবে। লুটপাটকারীদের দ্বারা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।”
তিনি দলের ওপর অতীত সরকারের নির্যাতনের বর্ণনাও দেন। শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল। হাজারো নেতাকর্মীকে আটক ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও আমরা জনগণের পাশে থেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম।”
শফিকুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ‘হ্যাঁ-না’ গণভোট। এরপরের নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ গড়ার সুযোগ দিতে তিনি আহ্বান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে বৈষম্যহীন, যোগ্যতার ভিত্তিতে গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, গত ৫৪ বছরে যারা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হবে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো নির্দিষ্ট দল বা পরিবারের জন্য নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় দেখতে চাই।”
জনসভায় উপস্থিত মানুষকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশকে দুর্নীতি মুক্ত ও সব মানুষের জন্য নিরাপদ করার লক্ষ্যে তাদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিওডি বাংলা/জা







