নাহিদ ইসলাম:
নারী ও সংখ্যালঘু বিষয়ে আপস হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট টিকবে না

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটপ্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয় নিয়ে আপস করলে জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জামায়াতের সঙ্গে তৈরি হওয়া জোটের ভিত্তি নড়ে যাবে। তিনি ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, এই জোট এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নির্বাচনী সহযোগিতা ও নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন হলে, এই অবস্থান জোটের ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে, এনসিপি ও জামায়াতের পৃথক ইশতেহার রয়েছে।
তিনি বলেন, “জামায়াত তাদের পুরোনো চরম ডানপন্থী আদর্শ থেকে সরে এসেছে এবং বলেছে যে, তারা শুধুমাত্র ঐতিহ্যবাহী আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠন করবে না। তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং এমনকি জাতীয় সরকারের কথাও বিবেচনা করছে। তবে, আমাদের মূল অবস্থান-বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার—আপস করলে জোটটি টিকবে না।”
নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত জানিয়েছে যে তারা উদার নীতির মধ্যে থাকবে। যদি জোট সরকার গঠিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রকে ধর্মতান্ত্রিক দিকে না নিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, “নারী ও সংখ্যালঘুদের সমস্যা অবশ্যই সমাধান করা হবে। এটি আমাদের মৌলিক অঙ্গীকার এবং এনসিপির অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের অংশ।”
নাহিদ ইসলাম জানান, জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি মোট ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যদিও দলটি নতুন এবং পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচনে অভিজ্ঞতা নেই, তবুও তারা আশাবাদী যে এনসিপি এবং জোট ভালো ফলাফল করবে।
সাক্ষাৎকারে জোটের আদর্শিক ভিত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই জোট মূলত নির্বাচনের জন্য গঠিত। তবে, কিছু সাধারণ এজেন্ডা রয়েছে। একটি প্রধান লক্ষ্য হলো বিপ্লবের পরে সংস্কার। এজন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং গণভোট আয়োজন করা হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাব।”
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, যদি জোট সরকার গঠন করে, তবে তারা যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে। এ ছাড়া, দুর্নীতি বিরোধী ও সুশাসন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ হবে। তিনি বলেন, “আমরা একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি চাই। ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক চাই, তবে তাদের বাংলাদেশ নীতি পরিবর্তন করতে হবে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।”
সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন আন্দোলনের সঙ্গে তাদের দল জড়িত। নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন। তিনি বলেন, “ভারত যদি শেখ হাসিনা ও যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই রায় হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে দেয়, তাহলে সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে। অন্যথায়, সম্পর্ক কঠিন হতে পারে।”
জোট বিষয়ে দলের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা এটি সমর্থন করেছেন। তবে কিছু সদস্য দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং ১০-১২ জন দল ত্যাগ করেছেন। তিনি তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান এবং বলেন, “এটি একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, বেশিরভাগ সদস্য এটিকে সমর্থন করেন।”
জুলাই আন্দোলনের নেতাদের একক দল গঠনের প্রয়োজন নেই এমন মন্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি কেউ স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে চান, তারা তা করতে পারেন।”
নাহিদ ইসলাম জোট সরকারের সম্ভাব্য প্রভাব ও লক্ষ্য সম্পর্কে আরও বলেন, যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন, দুর্নীতি ও অকার্যকর প্রশাসনের বিরোধিতা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক নীতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নেওয়া হবে।
তিনি মন্তব্য করেন, “জোট নির্বাচনী, তবে কিছু সাধারণ এজেন্ডা আমাদের একত্রিত করেছে। নারীর অধিকার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন, সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতি-এই বিষয়গুলো আমাদের মূল নীতির অংশ।”
সাক্ষাৎকারে ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক চাই। তবে ভারতকে সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এসব ছাড়া সুসম্পর্ক সম্ভব নয়।”
এনসিপি আহ্বায়ক নিশ্চিত করেন যে, নারীর অধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে আপস করলে জোট সরকারের টেকসইতা হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, এটি তাদের মৌলিক নীতি এবং দলের অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনে এনসিপি এবং জোট ভালো ফলাফল করবে। তবে জোটের সাফল্য নির্ভর করছে তাদের নীতিগত অবস্থান এবং নির্বাচনী প্রচারণার উপর।
ভিওডি বাংলা/জা







