• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি

   ১৫ জানুয়ারী ২০২৫, ০৮:০৭ পি.এম.

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ জুলাই-অগাস্টে নির্বাচন দাবি করলেও প্রশ্ন উঠছে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন হলে দল হিসেবে বিএনপি সেই নির্বাচনের জন্য কতটা প্রস্তুত। কীভাবেই বা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা? অবশ্য দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনের একটা প্রস্তুতি তাদের নেয়াই আছে এবং এ প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ২০১৮ সালের নির্বাচনে যারা মনোনয়ন পেয়েছিলেন তারা নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় ইতোমধ্যেই সক্রিয় হয়েছেন ও ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থীদের পাশাপাশি দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতারা সামনের নির্বাচনে প্রাধান্য পাবেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন, মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের সেভাবেই গাইড করা হয়েছে। এটা নির্বাচনি প্রস্তুতিরই অংশ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে ২০১৮ সালের যারা দলের প্রার্থী ছিল তাদের অনেককে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। "আমাদের সাথে আন্দোলনে যারা ছিলেন তাদের বিষয়েও কিছু নির্দেশনা গেছে মাঠ পর্যায়ে।

স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্য সেলিমা রহমান বলছেন 'নির্বাচনকে ঘিরে মোটামুটি একটা ছক আমাদের আঁকাই আছে।পরিস্থিতি বিবেচনায় হয়তো অল্প কিছু পরিবর্তন হবে।'

আর চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলছেন '২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে বিগত সরকারের স্বরূপ উন্মোচন করেছিলেন। তারা নিজের এলাকায় দলকে সংগঠিত রেখেছেন।'

যে কারণে নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে তা হলো বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মন্তব্য। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ জুলাই-অগাস্টের মধ্যেই নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বিএনপি শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এর আগে ২০১৮ সালে দলটি অংশ নিয়েছিলো ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হয়ে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলো দলটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দল থেকে ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী বেশিরভাগ এলাকাতেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের বিভিন্ন ইউনিট পুনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যাপক জনসংযোগ করছেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতারাই এখন মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন।

গত অগাস্টে সিলেট ও ময়মনসিংহসহ যেসব এলাকায় বন্যা হয়েছে সেসময় ওইসব এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান।এবার শীতের শুরু থেকেই শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা, যার মূল লক্ষ্য হলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

দলের নেতারা জানিয়েছেন জামায়াতের সঙ্গে এবার আর জোটবদ্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং পাঁচই আগস্ট পরবর্তী সময়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল দুটির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কারণে ধারণা করা হচ্ছে যে জামায়াত ও বিএনপি পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবেই নির্বাচনের মাঠে আসতে যাচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় বিএনপির সাথে আন্দোলনে ছিল অন্য দলের এমন কয়েকজন নেতাকে ছেড়ে দেয়ার ইঙ্গিত বিএনপি ইতোমধ্যেই দিয়েছে।

গত বছর ২২শে অক্টোবর সমমনা শরীক দলগুলোর ছয় জন নেতাকে তাদের নির্বাচনি এলাকায় সহযোগিতার জন্য ছয়টি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের জরুরি চিঠি দেয়া হয়েছিলো দলটির দপ্তর থেকে।

ওই ছয় নেতা হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব (লক্ষ্মীপুর-৪), নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-৪), গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি (ঢাকা-১২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩) ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান (ঝিনাইদহ-২) এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২-দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা (কিশোরগঞ্জ-৫)।

এছাড়া কিছু এলাকায় দলের একাধিক শক্ত প্রার্থী থাকায় সেখানকার সম্ভাব্য প্রার্থীদের কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব আসনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন বলে দলের নেতারা ধারণা দিয়েছেন।

সরকারের দিক থেকে প্রধান উপদেষ্টা অবশ্য চলতি বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা উল্লেখ করেছেন।

ভিওডি বাংলা/ এম


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ৭০ শতাংশ খালাস, সাজার হার ৩ শতাংশ!
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ৭০ শতাংশ খালাস, সাজার হার ৩ শতাংশ!
ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে কাল : আলোচনায় উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব
ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে কাল : আলোচনায় উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব
বাস্তবতা এখনো জটিল, অনিশ্চয়তার অন্ত নেই
আজ মহান মে দিবস বাস্তবতা এখনো জটিল, অনিশ্চয়তার অন্ত নেই