{# Dark-theme overrides for the above-the-fold critical surfaces. Inlined so dark users don't flash a light background while the async dark.css is still loading. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর সরকার, নিহত ২শ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১১ এ.এম.
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী তেহরান-ছবি: সংগৃহীত
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী তেহরান-ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ বুধবার থেকে আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং বৃহস্পতিবার রাত থেকে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, শুধু রাজধানী তেহরানেই এক রাতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এবং তাদের বেশিরভাগই তরুণ।

এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। প্রথমে তা সীমিত পরিসরে শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা তেহরান ছাড়িয়ে কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ অন্তত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগ ও জাতীয় পতাকা ছেঁড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকার পতন এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ। তাদের স্লোগানে উঠে এসেছে, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ এবং ‘স্বাধীনতা চাই’। এই স্লোগানগুলো ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে কঠোর অবস্থান নেয় দেশটির এলিট বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, দেশে চলমান ‘অরাজকতা’ আর বরদাশত করা হবে না। এর পরপরই বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠে।

টাইম ম্যাগাজিন আরও জানায়, শুক্রবার হাসপাতালগুলো থেকে নিহতদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারকে মরদেহ গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়েছে দ্রুত দাফনের জন্য। চিকিৎসক জানান, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হলে সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন।

তবে এসব মৃত্যুর সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেছে টাইম ম্যাগাজিন।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র শত শত হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ধ্বংসকারীদের সামনে কখনো পিছু হটবে না।” তিনি বিক্ষোভকারীদের বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় কাজ করার অভিযোগও তোলেন।

তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউটও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা নাশকতা চালাবে কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি-এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারকে নতুন করে সতর্ক করে বলেন, “তোমরা গুলি চালানো শুরু করো না। করলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। আমি শুধু আশা করি ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে।” এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে এর মূল্য চুকাতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে ইরান নতুন করে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশটির অর্থনৈতিক দুরবস্থা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক দমননীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরেই জমছিল। বর্তমান আন্দোলন সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ বলেই দেখা হচ্ছে।

তবে সরকারও কোনো আপসের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং আরও শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সামনে দিনগুলোতে ইরানের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ভিওডি বাংলা/জা
 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্লেষণ: ‘এল মায়ো’র পতন, এখন সিনালোয়া কার?
ছবি: সংগৃহিত
ভারতের কাবেরী থেকে চীনের জে-২০: চার দশকের দৌড়ে কে এগিয়ে?
ছবি: সংগৃহিত
স্বামীর কর্মস্থলে স্ত্রীর অভিযোগ করা নিয়ে যা বলছে ভারতের আদালত