দেশে ফিরলেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা
‘পাশেই জাহাজ ডুবছিল, মাথার ওপর উড়ছিল ক্ষেপণাস্ত্র’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ১১৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা। দেশে ফিরে সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে চার মাস অবরুদ্ধ থাকার সময় অনেক জাহাজের নাবিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ প্রাণও হারান। অনেক জাহাজ খাবার ও পানির সংকটে পড়ে, আবার কোনো কোনোটি প্রণালি পার হতে গিয়ে ডুবে যায়। তবে তাঁদের চিকিৎসা বা সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেলাম। দেশবাসী যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন, মানসিক সমর্থন দিয়েছেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল, পাশেই জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল। তখন সরকার থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার স্বার্থে তাঁরা জাহাজ ছেড়ে যাননি।
জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এক রাতে পাশের বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ছয়টি টাগবোট দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ট্যাংকারটির ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে আগুন তাঁদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারত।
জাহাজের তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন বলেন, সংঘাত চলাকালে স্যাটেলাইটভিত্তিক নৌ-নির্দেশনা ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় সম্পূর্ণ হাতে পরিচালিত নৌ-চালনা পদ্ধতির মাধ্যমে জাহাজ চালাতে হয়েছে। এ সময় এলাকায় মাইন থাকায় সামান্য বিচ্যুতিতেও বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল।
বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে নাবিকদের স্বাগত জানান। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর মিলিত হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে ইস্পাতের কুণ্ডলী বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। পরদিন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটি পারস্য উপসাগরেই আটকা পড়ে। অবশেষে ১১৫ দিন পর ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে নিরাপদে ফিরে আসে জাহাজটি।
ভিওডি বাংলা/আ








মন্তব্য