মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১০০ দিন আগে এ কেমন ভাষণ ট্রাম্পের!
মার্কিন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আর মাত্র ১০০ দিনের কিছু বেশি সময় বাকি। এমন সময় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চ—হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার (ডব্লিউএইচসিডি)।
কিন্তু রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা বা নিজের প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরার বদলে ট্রাম্পের এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের ভাষণজুড়ে স্থান পেয়েছে পুরোনো কৌতুক, ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিতর্কিত মন্তব্য এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্ষোভ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এটি হতে পারত একটি কৌশলগত ভাষণ। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প গত এপ্রিলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে বন্দুকধারীর হামলার চেষ্টার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি পুরোনো রাজনৈতিক অভিযোগ, প্রতিপক্ষকে বিদ্রূপ এবং ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌতুকে ফিরে যান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই লক্ষ্য করেন, ট্রাম্পের একের পর এক কৌতুক প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছিল না। এমনকি বক্তৃতার সময় তার নিজের মধ্যেও সেই বিষয়টি উপলব্ধি করার ইঙ্গিত দেখা যায়।
নির্বাচনের বার্তা ছিল না
আগামী মিডটার্ম নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভাষণে তিনি দেশজুড়ে চলমান কংগ্রেস নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে খুব সামান্যই কথা বলেন।
রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়া, দলের নীতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা কিংবা কেন ভোটারদের কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা উচিত—এসব বিষয়ে কার্যত কোনো জোরালো বার্তাই ছিল না।
এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক ভাষণটিকে "সুযোগ হারানোর উদাহরণ" হিসেবে দেখছেন।
পুরো বক্তব্যে সবচেয়ে আলোচিত এবং নতুন কৌতুকটি ছিল স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রকে নিয়ে।
ডিনারে পরিবেশিত গরুর মাংসের পদ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, "এটি খুবই বিশেষ।"
এরপর কেনেডির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, "ববি কেনেডি এখানেই আছেন। গরুটিকে তিনি নিজেই গাড়ি দিয়ে চাপা দিয়েছেন।"
এই মন্তব্যে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এটিই ছিল পুরো ভাষণের সবচেয়ে সফল কৌতুক।
এই একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ট্রাম্পের অধিকাংশ বক্তব্যই ছিল গত এক দশকে বহুবার শোনা অভিযোগ ও মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ওয়াশিংটনের অভিজাত মহলকে কটাক্ষ করেন, তবে নতুন কোনো নীতি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাষণটি আরও সংক্ষিপ্ত ও সম্পাদিত হলে কিংবা কেউ যদি তাকে কিছু অংশ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিতেন, তাহলে পরবর্তী সমালোচনার অনেকটাই এড়ানো যেত।
সমালোচনা:
ভাষণ শেষে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়ায় একটি শব্দ বারবার উঠে আসে—"একঘেয়ে"।
ট্রাম্পের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও, তার বক্তৃতাকে "বিরক্তিকর" বা "একঘেয়ে" বলা খুব একটা দেখা যায় না। এবার সেই বিশেষণই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ট্রাম্প যদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অর্থনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা বা কংগ্রেস নির্বাচনের মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতেন, তাহলে ভাষণটি রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারত। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ হারিয়েছেন।
ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই ভাষণ নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার পরিবর্তে পুরোনো বিতর্ক, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ব্যর্থ কৌতুকের জন্যই বেশি আলোচিত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সিএনএন এর বিশ্লেষণ
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য