যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি থেকে করিম খানকে অপসারণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে যৌন অসদাচরণের অভিযোগে পদ থেকে অপসারণ করেছে আদালতের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিস’।
তবে করিম খানের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি আদালতের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।
শুক্রবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খানকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমন সময় এই সিদ্ধান্ত এলো, যখন ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র চাপের মুখে রয়েছে আইসিসি।
করিম খানের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া আইনজীবী তায়্যাব আলী বলেন, জাতিসংঘের অফিস অব ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেস (ওআইওএস)-এর তদন্তে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, প্রাসঙ্গিক আইনি কাঠামোর অধীনে করিম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
তার ভাষায়, "করিম খানকে এমন সময় নির্বাহী ভোটে অপসারণ করা হয়েছে, যখন তিনি নিজেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন এবং পুরো আদালত নজিরবিহীন রাজনৈতিক চাপে ছিল।"
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত স্বাধীন বিচারিক পর্যালোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি আদালতের নির্বাচিত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অপসারণের একটি উদ্বেগজনক নজির তৈরি করল।
কী অভিযোগ
প্রায় দুই বছর আগে প্রথম যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে করিম খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী, যিনি "সারা" নামে পরিচিত, সম্প্রতি সিএনএনকে জানান, করিম খান বারবার তার শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করতেন। এক পর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে থাকার ভান করলেও করিম খান তাকে স্পর্শ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন।
করিম খান শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অন্যায্য এবং অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
তবে গত জুনে একটি তদারকি প্যানেল করিম খানের বিরুদ্ধে "গুরুতর অসদাচরণের" সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করা হলো।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আইসিসি জানিয়েছে, নতুন প্রধান কৌঁসুলি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামিন খান ও মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং যৌথভাবে কৌঁসুলির দপ্তরের দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন প্রধান কৌঁসুলি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখনই শুরু হবে। তবে ভোট আগামী বছরের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
নেতানিয়াহুর মামলার কী হবে
করিম খানের অপসারণ হলেও নেতানিয়াহু ও ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর এর কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এসব পরোয়ানা প্রত্যাহার বা বাতিল করার ক্ষমতা কেবল আদালতের বিচারকদের রয়েছে। ফলে কৌঁসুলি পরিবর্তন হলেও মামলার আইনি অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার দাবি করেন, করিম খান নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন কেলেঙ্কারি থেকে দৃষ্টি সরাতেই ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসে ফিলিস্তিনি মিশন বলেছে, করিম খানকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা "অত্যন্ত নিন্দনীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত"।
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কৌঁসুলির পরিবর্তন হলেও রোম সংবিধির আওতাধীন সব অপরাধের তদন্ত ও বিচার স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং পেশাদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ









মন্তব্য