• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা কেন কম দেখাল পেন্টাগন?

  ভিওডি বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনাসদস্যদের সংখ্যা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পেন্টাগনের সরকারি হতাহত তথ্যভান্ডার ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)-এর ওয়েবসাইটে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা হঠাৎ ১৮ থেকে কমে ১৪ দেখানো হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ উভয়ই ১৮ জন সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই অসঙ্গতিকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা।

সপ্তাহের শুরুতে ডিসিএএসের ওয়েবসাইটে ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট অভিযানে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ছিল ১৮। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ সেই সংখ্যা ১৪-তে নেমে আসে। গত সপ্তাহান্তেই জর্ডানে তিনজন এবং ইরাকে একজন মার্কিন সেনা নিহত হন। অথচ ওয়েবসাইটে ওই চারজনের তথ্য আর দেখা যায়নি।

বুধবার ডেলাওয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে নিহত চার সেনাসদস্যের মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেন। তবে তিনি বলেন, "একজনের মৃত্যুও অনেক বেশি। কিন্তু সংখ্যা ১৮, যেখানে ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমরা অনেক বেশি মানুষ হারিয়েছিলাম।"

যদিও ট্রাম্প বক্তব্যে ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ২ লাখ উল্লেখ করেন, পেন্টাগনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী সে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনার সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ২২০।

এ ঘটনার পর পেন্টাগনের বিরুদ্ধে হতাহতের প্রকৃত তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে। তবে প্রতিরক্ষা দপ্তর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, ডিসিএএস ওয়েবসাইটে "সাময়িক তথ্যগত বিভ্রাট" (temporary data disruption) দেখা দিয়েছিল। সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যাটি সমাধানের কাজ চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হতাহতের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করার কোনো চেষ্টা করা হয়নি।

তবে ঘটনার প্রায় একদিন পরও ওয়েবসাইটে ভুল তথ্য বহাল থাকায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। সিএনএন এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে জানতে চাইলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো উত্তর পায়নি।

শুধু নিহতের সংখ্যাই নয়, আহত সেনাদের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চলতি সপ্তাহে পেন্টাগন স্বীকার করেছে, ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। অথচ ডিসিএএসের ওয়েবসাইটে সেই সময় আহতদের প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত হয়নি।

এ অবস্থায় সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিতে থাকা ১২ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চান, ডিসিএএসে কেন ভুল তথ্য প্রকাশিত হয়েছে এবং যুদ্ধে নিহত ও আহত সেনাদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক হিসাব কবে প্রকাশ করা হবে।

চিঠিতে সিনেটররা বলেন, "মার্কিন জনগণ, কংগ্রেস, সেনাসদস্য এবং তাদের পরিবার যুদ্ধের মানবিক মূল্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য জানার অধিকার রাখে। বর্তমানে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সংঘাতজুড়ে প্রতিরক্ষা বিভাগ সময়মতো এবং পূর্ণাঙ্গভাবে হতাহতের তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি।"

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানান, কোনো সেনার আহত হওয়ার তথ্য সামরিক ডাটাবেজে যুক্ত হতে চিকিৎসা মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও সময় লাগতে পারে। তবে তার দাবি, ডিসিএএসের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।

এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেছিলেন, সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটলেই তা অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হয় এবং এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলে।

তবে নিহত সেনার সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্যভান্ডারে এমন অসঙ্গতি তৈরি হওয়ায় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেস এখন জানতে চাইছে, এটি কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি হতাহতের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত।

সূত্র: সিএনএন

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা গ্রাফিক্স
জেন-জি আন্দোলনের মধ্যেই মোদি সরকারের মন্ত্রীর পদত্যাগ
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ছবি: সংগৃহীত
‘ককরোচ’ বিতর্কে ব্যাখ্যা দিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি ইরানের নতুন নেতা পরমাণু বোমা বানাতে বেশি আগ্রহী