ইরানের অবরোধের মধ্যেই বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকর রাখার অংশ হিসেবে আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওমান উপসাগরে ইরানগামী একটি জাহাজ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে সতর্কবার্তা উপেক্ষার পর সেটির ইঞ্জিন কক্ষে গুলি চালিয়ে জাহাজটিকে অচল করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, শুক্রবার সংঘাতের টানা ১৩তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকে। যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, এম/টি লাভিন নামের বাণিজ্যিক জাহাজটি অন্তত চারবার ইরানের বন্দর অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা করে। প্রতিবারই জাহাজটিকে থামার নির্দেশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তা অমান্য করা হয়। এরপর মার্কিন বাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে গুলি চালায়, যাতে সেটি আর চলাচল করতে না পারে।
হকিন্সের দাবি, জাহাজটির নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ পুনর্বহালের পর এটি দ্বিতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ, যেটিকে এভাবে অচল করার দাবি করল যুক্তরাষ্ট্র।
সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রতিবেশী দেশগুলোর বাসিন্দাদের মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে ইয়েমেনের বন্দরনগরী হোদেইদায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
হুথিরা জানিয়েছে, তারা তাদের হামলা আরও জোরদার করবে। এতে কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকা ইয়েমেন সংঘাতও নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের নিরাপত্তা বৈঠক
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরানকে ঘিরে বর্তমান সামরিক কৌশল অব্যাহত রাখা হবে নাকি আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তবে বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে সামরিক তৎপরতা দ্রুত বাড়তে থাকায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ









মন্তব্য