দেশকে সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, নিজেকে, পরিবারকে ও দেশকে সুস্থ রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এর চর্চা হারিয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলা থেকে ছাত্রসমাজ যত দূরে সরে যাচ্ছে, সমাজও তত অপূর্ণ হয়ে পড়ছে।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সাঁতার ও ওয়াটার পোলো ছাত্র-ছাত্রী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার স্কুল, ইউনিয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে গুরুত্ব দিচ্ছে। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই পরিবেশ অনুপস্থিত।
তিনি আরও বলেন, একজন মানুষকে সুস্থ থাকতে হলে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। খেলাধুলা মানুষকে মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি থেকে দূরে রাখে। তাই দেশে খেলাধুলার পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
নিজের ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে দায়িত্ব পালন করেছেন, অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিশ্বাস, খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত মানুষ ভালো মনের ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের দুর্বলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীমাতৃক দেশ হওয়া সত্ত্বেও সাঁতারে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পারেনি। পর্যাপ্ত চর্চা, সুযোগ-সুবিধা ও শারীরিক সক্ষমতার ঘাটতি এর অন্যতম কারণ। উন্নত দেশগুলোতে ছোটবেলা থেকেই ক্রীড়াবিদ তৈরির পরিকল্পিত ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে অনেক দেরিতে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ শুরু হয়।
ফুটবলের প্রসঙ্গ টেনে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এক সময় বাংলাদেশ এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত, কোরিয়ার মতো দলের সঙ্গে ড্র ও জয়ও পেয়েছে। মালদ্বীপকে বড় ব্যবধানে হারানোর রেকর্ডও রয়েছে। কিন্তু নিয়মিত চর্চার অভাবে সেই অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে 'ব্লু' প্রদানের ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান। এতে নতুন প্রজন্ম খেলাধুলায় আরও বেশি উৎসাহিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, সুস্থ থাকতে হলে খেলাধুলার পাশাপাশি মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেকেই ধূমপানের মতো অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েন, যা ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।
প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় প্রতিযোগিতার জন্য টোকেন অনুদান হিসেবে মোট ১ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এফএ








মন্তব্য