• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
রোববার দুই ঐতিহাসিক স্থানে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান হরমুজ প্রণালিতে নৌ জোট গঠনে লন্ডনে শীর্ষ বৈঠকের উদ্যোগ সরকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা মানুষের ইচ্ছা আমলে নেওয়া খারাপ কিছু নয়: দুদু সেপ্টেম্বর অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আইনমন্ত্রী ইরানের নতুন নেতা পরমাণু বোমা বানাতে বেশি আগ্রহী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যা জানাল ইসি ঢাকায় অনুপম রায়ের কনসার্টের নতুন তারিখ ঘোষণা মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে আইইডি বোমা উদ্ধার তরুণদের কাছে পৌঁছাতে মন্ত্রীদের বিশেষ নির্দেশনা মোদির

অনুসন্ধান

যেভাবে সোনা পাচার করে বিলিয়ন ডলার সাদা করা হচ্ছে

  ভিওডি বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২:০২ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি দেশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে সোনা পাচার করে প্রতি মাসে বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সরকারগুলোকেও সহায়তা করছে এই নেটওয়ার্ক। আল জাজিরার অনুসন্ধানী ইউনিটের ‘গোল্ড মাফিয়া’ শীর্ষক চার পর্বের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তিন মহাদেশজুড়ে পরিচালিত গোপন অনুসন্ধান, আন্ডারকভার অভিযান এবং হাজারো নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি এই অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জিম্বাবুয়ে থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ সোনা দুবাইয়ে পাচার করা হচ্ছে। এরপর ভুয়া কোম্পানি, জাল চালান (ইনভয়েস) এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সেই সোনার লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থকে বৈধ বা ‘সাদা’ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে জিম্বাবুয়ের সরকারও এই চক্রের সহায়তা নিচ্ছে। অনুসন্ধানে দেশটির একজন শীর্ষ কূটনীতিকসহ প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া এবং তার ঘনিষ্ঠদের নাম উঠে এসেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বা সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।  

যেভাবে চলে অর্থপাচার:

আল জাজিরার আন্ডারকভার সাংবাদিকেরা নিজেদের চীনা অপরাধী চক্রের সদস্য পরিচয় দিয়ে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ পাচারে আগ্রহী বিনিয়োগকারী হিসেবে চক্রটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, বিভিন্ন দেশের অপরাধীরা বিপুল অঙ্কের অঘোষিত নগদ অর্থ জিম্বাবুয়ের সরকার বা পাচারকারীদের হাতে তুলে দেয়। এর বিনিময়ে সেই অর্থ দিয়ে সরকারি বা বেসরকারি চ্যানেলে সোনা কেনা হয় এবং দুবাইয়ে বিক্রি করা হয়। পরে বৈধ সোনা বিক্রির অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়। ফলে অবৈধ অর্থ বৈধ রূপ পায়।

জিম্বাবুয়ের জন্য এ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশটির নিজস্ব মুদ্রার আন্তর্জাতিক মূল্য খুবই কম। তাই সরকারের জন্য মার্কিন ডলার সংগ্রহের এটি একটি বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে।

কূটনৈতিক পরিচয় অপব্যবহার: 

অনুসন্ধানে অন্যতম আলোচিত নাম জিম্বাবুয়ের ইউরোপ ও আমেরিকাবিষয়ক বিশেষ দূত উয়েবার্ট অ্যাঞ্জেল। তিনি একজন খ্যাতনামা ধর্মীয় প্রচারকও। আল জাজিরার গোপন প্রতিবেদনে দেখা যায়, তিনি এবং তার সহযোগী রিকি ডুলান কূটনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধ অর্থ জিম্বাবুয়েতে নিয়ে আসার প্রস্তাব দেন।

তাদের দাবি, সেই অর্থ দিয়ে প্রেসিডেন্টের ভাতিজি এবং দেশটির খনি মালিকদের সংগঠনের প্রধান হেনরিয়েটা রাশওয়ার সহযোগিতায় সোনা কেনা সম্ভব।

এক পর্যায়ে ডুলান সাংবাদিকদের বলেন, "এটি তো দারুণ একটি মানি ওয়াশিং মেশিন, তাই না?"

আল জাজিরার দাবি, অ্যাঞ্জেল ও ডুলান বারবার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নানগাগওয়া এ পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত।

পুরোনো কেলেঙ্কারি: 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কেনিয়ার বহুল আলোচিত গোল্ডেনবার্গ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী কমলেশ পাটনির নামও। নব্বইয়ের দশকে কেনিয়ার রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।

আল জাজিরার দাবি, বর্তমানে তিনি জিম্বাবুয়ে থেকে সোনা দুবাইয়ে পাচার এবং অর্থপাচারের একই ধরনের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন।

এ ছাড়া স্বর্ণ পাচারকারী ইওয়ান ম্যাকমিলান, তার সহযোগী অ্যালিস্টার ম্যাথিয়াস এবং জিম্বাবুয়ের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী সাইমন রুডল্যান্ডের বিরুদ্ধেও সোনা পাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব চক্র দুবাইয়ে শেল কোম্পানি খুলে বৈধ সোনা ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অর্থ সাদা করে।

প্রতিক্রিয়া:

কমলেশ পাটনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কেনিয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি অর্থপাচার বা অবৈধ উৎসের অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগও নাকচ করেছেন।

অ্যালিস্টার ম্যাথিয়াস বলেছেন, তিনি কখনো অর্থপাচারের কোনো ব্যবস্থা তৈরি করেননি এবং অবৈধ সোনা ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত নন।

সাইমন রুডল্যান্ড অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। তার প্রতিষ্ঠান গোল্ড লিফ টোব্যাকোও সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, অর্থপাচার ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে এবং তারা কোনোভাবেই এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।

তবে প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া, উয়েবার্ট অ্যাঞ্জেল, রিকি ডুলান, হেনরিয়েটা রাশওয়া এবং প্রতিবেদনে নাম আসা আরও কয়েকজন আল জাজিরার প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি।

আল জাজিরার অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, সোনা এখন শুধু মূল্যবান ধাতু নয়, আন্তর্জাতিক অর্থপাচার, দুর্নীতি এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। জিম্বাবুয়েকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই নেটওয়ার্ক কীভাবে রাষ্ট্র, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রকে একই সুতোয় বেঁধেছে, তা তুলে ধরেছে ‘গোল্ড মাফিয়া’ অনুসন্ধান।

সূত্র: আল জাজিরা ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি থেকে করিম খানকে অপসারণ
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ভারত
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১০০ দিন আগে এ কেমন ভাষণ ট্রাম্পের!