• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

৭ জেলায় বন্যা, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৫ পি.এম.
টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত বান্দরবানের একটি সড়ক। ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত বান্দরবানের একটি সড়ক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমলেও সাত জেলায় পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়া নদীগুলোর কারণে মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান-এই সাত জেলায় বন্যার প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি নদীর ছয়টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট, মৌলভীবাজারের মনু নদ এবং হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্ট।

এসব এলাকায় নদীর পানি উঁচু থাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক, বসতঘর ও কৃষিজমি পানির নিচে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সেখানে বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা নেই। একই সময়ে ফেনী অঞ্চলেও নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে তিনি জানান, গত দুই দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী সোমবারের পর থেকে ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

বন্যা পরিস্থিতির পেছনে উজানের বৃষ্টিও বড় ভূমিকা রাখছে। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটের জাফলংয়ে।

উজানের পানি নেমে আসার পাশাপাশি স্থানীয় বৃষ্টির কারণে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির চাপ এখনো বেশি রয়েছে। এতে নিচু এলাকার মানুষকে বন্যার ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদী নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

যদিও দেশের প্রধান দুই নদী গঙ্গা ও যমুনার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। বিশেষ করে যমুনার পানি কমতে শুরু করায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণে দেশের ১২৭টি পানি পরিমাপ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে নদীর পানি বেড়েছে, ৬৪টিতে কমেছে এবং ছয়টি কেন্দ্রে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকাগামী বাসে মিলল ৯২ হাজার ইয়াবা, চালক পলাতক
ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টিতে কালভার্ট ধস, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় আটক হওয়া মিয়ানমারের নাগরিকরা। ছবি: বিজিবি
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অনুপ্রবেশ, ১১ মিয়ানমার নাগরিক আটক