• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
ডা. পাভেলকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক আদালতের নির্দেশনা, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: এক বছরেও শুরু হয়নি বিচার পরিবারের অভাব ঘোঁচাতে গিয়েছিলেন সৌদি, ফিরলেন লাশ হয়ে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১২, নিখোঁজ ২৩ জুলাইয়ের আগেও ভোট চুরি হয়েছিল, পরেও হয়েছে: হাসনাত ভোমরা স্থলবন্দরে ডায়মন্ডের নাকফুলসহ আটক ২ চট্টগ্রাম অঞ্চলের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করবেন প্রতিমন্ত্রী অমিত ভারী বর্ষণে বান্দরবানে পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ল

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: এক বছরেও শুরু হয়নি বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ পি.এম.
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও ইট পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যার ঘটনায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচারকাজ শুরু হয়নি। তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হলেও মামলাটি এখনও অভিযোগ গঠনের পর্যায়েই আটকে রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে আগামী রোববার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলেই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে।

ঘটনার পর সরকার মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ঘোষণা দিলেও এক বছর পার হলেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এতে বিচারপ্রক্রিয়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদীপক্ষ।

নিহতের পরিবারের আইনজীবী জিয়াউল হক বলেন, ‘মামলাটি বর্তমানে বিচারিক আদালতে রয়েছে। তবে এখনো বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চাই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

একই বছরের ৮ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলেও আসামিদের নাম পরিচয় ও তথ্যগত কিছু অসংগতি ধরা পড়ায় আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। চলতি বছরের জুনে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে আদালত তা গ্রহণ করেন। এরপর ২১ জুন মামলাটি ঢাকার মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিচারের জন্য ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, তদন্তে গাফিলতির কারণেই দুই দফায় অভিযোগপত্র দিতে হয়েছে। ফলে বিচার শুরু হতে এক বছর সময় লেগে গেছে।

যেভাবে ঘটেছিল হত্যাকাণ্ড

২০২৫ সালের ৯ জুলাই পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল চত্বরে সোহাগকে প্রথমে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তার দেহ হাসপাতালের বাইরের সড়কে টেনে এনে জনসমক্ষে আরও হামলা চালানো হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের তদন্ত ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মিটফোর্ড এলাকায় পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবল ও ভাঙারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নিহত সোহাগ 'সোহানা মেটাল' নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন এবং তামার তার ও সাদা তারের ব্যবসার বড় একটি অংশ তার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, সোহাগের সাবেক বন্ধু মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটুসহ কয়েকজন ব্যবসার ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ অথবা নিয়মিত চাঁদা দাবি করেন। বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে দোকান থেকে ডেকে এনে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, সোহাগ এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মহিন, টিটুসহ কয়েকজন স্থানীয়ভাবে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে সংগঠনে তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো পদ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হত্যা মামলায় মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু, সজীব, রিয়াদ, টিটন গাজী, রাকিব, সাবা করিম লাকী, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু, রজব আলী পিন্টু, মো. সিরাজুল ইসলাম, রবিন, মিজান, অপু দাস, হিম্মত আলী, আনিসুর রহমান হাওলাদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

সম্পূরক অভিযোগপত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ১৩ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তবে সারোয়ার হোসেন, মনির, অপু, জহির, ইমরান, শারাফাত, হোসেন চৌকিদার ও জিয়াউদ্দিন এখনও পলাতক।

নিহতের বড় বোন ও মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ভাই গত বছর ৯ জুলাই নির্মমভাবে খুন হয়। এক বছর পার হলেও আজও ওই হত্যা মামলার কোনো অগ্রগতি বা বিচারকাজ শুরু হয়নি। এই মামলার অনেক আসামি এখনো পলাতক; অথচ তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

সোহাগ হত্যার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। বেলা ১১টায় আয়োজিত কর্মসূচিতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তারা পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে নিহতের ভাগনি বীথি আক্তার বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে, মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক আসামিকে বাঁচাতে একটি মহল পুলিশের সঙ্গে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে রক্ষা করেছে। পলাতক আসামিরা আমাদের ব্যবসায় বাধা দিচ্ছে, দখলের চেষ্টা করছে এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার চাই।’

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
রমনা পার্কে স্কুলছাত্রী উদ্ধার, আটক ভুয়া সাংবাদিক
আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যা, হুকুমদাতা-প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যা, হুকুমদাতা-প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারকৃত সৌমেন সাহা
ব্যবসার নামে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ট্রাস্ট গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডের মালিক গ্রেপ্তার