{# Dark-theme overrides for the above-the-fold critical surfaces. Inlined so dark users don't flash a light background while the async dark.css is still loading. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
ভিওডি বাংলার সংবাদ প্রকাশের পর র‍্যাবের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ২ পুলিশে বড় রদবদল, ১৪ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যা: মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ২ রাজধানীতে চলন্ত ট্রেন থেকে পা পিছলে যুবকের মৃত্যুু প্রশাসকদের আন্তরিকতায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে গতি এসেছে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ইরানের সাথে যুদ্ধে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত: পেন্টাগন জেল খাটাকালীনও মডেলিংয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে তরুণীদের ধর্ষণ মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি, আনসার সদস্যকে মহাপরিচালকের সম্মাননা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর যাদু মিয়া : তথ্যমন্ত্রী মোদির বাড়ির সামনে থেকে রাহুল গান্ধী আটক

মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মামলাজট নিরসনে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা (প্রি-কেস মেডিয়েশন) কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে।

মঙ্গলবার ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রি-কেস (মামলাপূর্ব) বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং আদালতে নতুন মামলা দায়ের উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। এই উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন। এতে বিচারব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ বাস্তবতায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

আইনমন্ত্রী জানান, একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তিনি জানান, এর মধ্যে পারিবারিক আদালত আইনে মামলা ৩ হাজার ৫৫৯টি থেকে কমে ১ হাজার ৭৪৪টিতে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৫১ শতাংশ হ্রাস। সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টনসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ২ হাজার ১টি থেকে কমে ৬৬১টিতে নেমেছে, যা ৬৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস।

এছাড়া স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলা ১৭টি থেকে কমে ২টিতে নেমেছে, অর্থাৎ ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৩১টি থেকে ১৪টিতে নেমে ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যৌতুক নিরোধ আইনে ৫ হাজার ৬০৫টি থেকে ১ হাজার ৮১০টিতে নেমে ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে ৪৩টি থেকে ৩৫টিতে নেমে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ মামলা কমেছে। সব মিলিয়ে গড়ে মামলা দায়ের ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের প্রবাহ এভাবে কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যাও দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য রেফার করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

আইনমন্ত্রী আশা করে বলেন, আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা ও দ্রুত ন্যায়বিচারের সুযোগ পাচ্ছে। এ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে ১ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জেলা জজ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন মাসের মধ্যে মামলাজট দৃশ্যমানভাবে কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রি-কেস মেডিয়েশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জাইকা, জিআইজেড এবং ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রশংসনীয়। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান।

মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, এ দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে নয়, বরং জনসেবামূলক দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তবে মধ্যস্থতা কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি কার্যকর, দ্রুত ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

ভার্চুয়ালি আরও বক্তব্য দেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন, কক্সবাজারের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।

বক্তব্য শেষে আইনমন্ত্রী একযোগে ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জেলাগুলো হলো- বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল।

আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১খ অনুযায়ী এসব জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন থেকে এসব জেলায় সাতটি আইনের আওতাভুক্ত মামলার ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

ভিওডি বাংলা/আর


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সহযোগিতার আগ্রহ ডব্লিউএফপির
ছবি: সংগৃহীত
একনেকে উঠছে ২,০৮২ কোটি টাকার কর্মসংস্থান প্রকল্প’
ছবি: সংগৃহীত
সাভারে নারী হত্যা: দুই সপ্তাহের মধ্যে মূল আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি