সংস্কৃতিসেবীরা কোনো দলের নয়, দেশের সম্পদ: ডিএসসিসি প্রশাসক

সংস্কৃতিচর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, সংস্কৃতিসেবী ও শিল্পীরা কোনো দলের নন, তাঁরা দেশের সম্পদ। তাঁদের রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে রেখে মূল্যায়ন করতে হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উৎসব ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশের নন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি। মানবজাতি যতদিন থাকবে, ততদিন নজরুল তাঁর সাহিত্য, সংগ্রাম ও চেতনার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন। তবে দেশের সংস্কৃতির অঙ্গনে নজরুলকে যেভাবে আরও বিস্তৃতভাবে ধারণ ও চর্চা করা উচিত ছিল, তা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো সংস্কৃতিও রাজনৈতিক বিভাজনের শিকার হয়েছে। ফাতেমাতুজ জোহরা ও ফেরদৌস আরার মতো গুণী শিল্পীরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের নন; তাঁরা দেশের সম্পদ। প্রতিভাকে কোনো গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখলে জাতিও তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়।
আবদুস সালাম বলেন, একসময় প্রতিটি এলাকায় লাইব্রেরি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নজরুলজয়ন্তী ও রবীন্দ্রজয়ন্তীর মতো আয়োজন ছিল। কিন্তু সেই চর্চা কমে যাওয়ায় তরুণদের একটি অংশ নেশাসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আগামী প্রজন্মকে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে সংস্কৃতিচর্চা ও খেলাধুলার বিকল্প নেই।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ধানমন্ডি লেকে রবীন্দ্র সরোবরের পাশে একটি ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণ করা হবে, যেখানে নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বিভিন্ন আয়োজন বিনা ভাড়ায় করা যাবে। একই সঙ্গে পুরান ঢাকার জহির রায়হান মিলনায়তন সংস্কার করে নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, যত বেশি মানুষকে সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে, ততই সমাজ উপকৃত হবে। শিল্পী, সাহিত্যিক ও খেলোয়াড়দের দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে জাতীয় সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, আগামী ১ আগস্ট ঢাকা নগরের ৪১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতদিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করা হবে। এতে পুরান ঢাকার কাওয়ালি, কাসিদা, ঢাকাইয়া সংস্কৃতি, ঘুড়ি উৎসব, সাইকেল রেস ও কবুতর ওড়ানোর মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন স্থান পাবে।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হবেন। একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও সংস্কৃতিবান ঢাকা গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভিওডি বাংলা/এফএ








মন্তব্য