• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আবদুস সালাম

‘জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যাত্রাবাড়ীর প্রতিরোধ’

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৭ পি.এম.
আবদুস সালাম
ছবি: ভিওডি বাংলা

যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধ না গড়ে উঠলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় দেওয়া সম্ভব হতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত '১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস' অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, যাত্রাবাড়ীর প্রতিরোধই ছিল আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং এতে অংশ নেওয়া কওমি শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সবার অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জুলাই আন্দোলনের চেতনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলছেন জুলাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে ১৯৭১ সালের চেতনা ও স্বপ্নও এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর ভাষায়, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। একটি গণতান্ত্রিক সরকার, আইনের শাসন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং নিয়মিত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারলেই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশ এগোবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, স্বাধীনতার পর আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, দলের জন্মই হয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানুষের মুক্তির জন্য। বিএনপি কখনো আপস করেনি; সবসময় আন্দোলন ও সংগ্রামে ছিল।

বিএনপি চেয়ারম্যানের এ উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং যাত্রাবাড়ীর আন্দোলনের ইতিহাস কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তবে আন্দোলনকে কখনো দলীয় ব্যানারে নেওয়ার ইচ্ছা বিএনপির ছিল না এবং তারেক রহমানও তা চাননি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর টানা ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকা সরকারের বিভিন্ন ত্রুটি ও অবহেলার কারণে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে। কিন্তু সেই বাস্তবতা বিবেচনা না করেই বিএনপিকে গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা চলছে। এ সময় তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

আবদুস সালাম বলেন, গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় না; এটি চর্চার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হয়। তাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি তারেক রহমানকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র যতবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ততবারই বিএনপি তা পুনরুদ্ধারে আন্দোলন করেছে।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সচিবালয়ের সামনে ওসমানী উদ্যানে অচিরেই জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ উদ্বোধন করা হবে, যেখানে জুলাই যুদ্ধে শহীদদের নাম সংরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ীতেও আন্দোলনের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার ঘোষণা দেন তিনি। এ জন্য আন্দোলনের সংগঠকদের তাঁর সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জনগণ পাঁচ বছরের জন্য ভোট দিয়েছে। সেই সময় শেষ হওয়ার আগে সরকারকে কাজের সুযোগ দিতে হবে। পাঁচ বছর পর জনগণই তাদের রায় দেবে। তাই দুই মাস বা ছয় মাসের মধ্যে সরকার পরিবর্তনের হুমকি না দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবেন এবং জুলাই যুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করবেন। তিনি সবাইকে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

ভিওডি বাংলা/খতিব/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রাজধানীর জলাবদ্ধতা
রাজধানীর জলাবদ্ধতা দায় কি শুধু সিটি করপোরেশনের, নাকি নগরবাসীরও?
ছবি: সংগৃহীত
ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান রবীন্দ্র সরোবরে সরানো হলো অবৈধ দোকান ও স্থাপনা
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার