করাচির আকাশে রহস্য, রাডার থেকে উধাও কার্গো বিমান

পাকিস্তানের করাচি উপকূলের কাছে একটি কার্গো বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ বিমানের সন্ধানে দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার ৭ জুলাই মধ্যরাতে স্থানীয় সময় পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে কার্গো বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমানটির সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করে অনুসন্ধান চালাতে নৌ ও বিমানবাহিনী বিস্তৃত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী।
একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিমানবাহিনীর একটি সার্ভিল্যান্স বিমান অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য এলাকায় পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ পিএনএস জুলফিকার ২ মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তান শিপিং কর্পোরেশনের অধীন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও সমুদ্রে নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে অংশ নেবে।
বিমানটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। ২৭ বছর পুরোনো বোয়িং উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের একটি কার্গো কোম্পানির পরিচালনাধীন ছিল। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। রাত ৯টা ৩২ মিনিটের দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, টিএ ১৭৩২ ফ্লাইটটি রাত ৯টা ১৭ মিনিটে ঘণ্টায় প্রায় ৭৯০ কিলোমিটার গতিতে ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল, যা ছিল স্বাভাবিক।
তবে অল্প সময়ের মধ্যেই বিমানটি ইউ টার্ন নেয় এবং দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র পাঁচ মিনিটে এটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগে বিমানটি ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ২১১ কিলোমিটার গতিতে উড়ছিল। এরপরই সেটি রাডারের পর্দা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানের ক্রুরা যান্ত্রিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন।
সূত্র: জিও টিভি
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য