বিএনপি নেতার মৃত্যু, ৫ মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

খুলনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশে প্রায় পাঁচ মাস পর কবর থেকে তাঁর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিব। তিনি জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পর আদালত মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখার নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর উপস্থিতিতে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
এ সময় কবরস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন খুলনা সদর উপজেলার আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে মারা যান মহিবুজ্জামান কচি। তিনি খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ভোটগ্রহণ শুরুর পর কেন্দ্রের ভেতরে পুকুরপাড় এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করছিলেন। এর প্রতিবাদ করলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কচির ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে আলিয়া কামিল মাদ্রাসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদার তাঁর গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। তৎকালীন বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু দাবি করেন, শারীরিক হামলার কারণেই কচির মৃত্যু হয়েছে।
তবে জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কচি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সে সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরাও প্রাথমিকভাবে শরীরে বড় ধরনের দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাননি বলে জানিয়েছিলেন।
পরে নিহতের পরিবারের শোকাবহ পরিস্থিতির মধ্যে খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ হারুন মজনু খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি নালিশি হত্যা মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় করা ওই মামলায় আব্দুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় মামলার বাদী ইউসুফ হারুন মজনু বলেন, “নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে হট্টগোল দেখে আমি এগিয়ে যাই। সেখানে কচির ওপর হামলা হয়েছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কচির মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই দুই পক্ষের বিপরীতমুখী বক্তব্য ছিল। এক পক্ষ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করলেও অন্য পক্ষ স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বলে আসছে। এ কারণেই তদন্তকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে পুনরায় ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য