চলচ্চিত্রের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খোলা চিঠি

চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন দেশের একদল চলচ্চিত্রকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের অনুমোদন পাওয়া চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে বাধা ও হুমকির ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খোলা চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার ওপর একটি গুরুতর আঘাত।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কাছে ছয় দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- অনুমোদিত চলচ্চিত্রের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রদান, চলচ্চিত্র স্বাধীনতা সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, জেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অধিকার বাস্তবায়নে প্রশাসনের ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং একটি স্বাধীন জাতীয় চলচ্চিত্র কাউন্সিল গঠন।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ২২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক, চলচ্চিত্রকর্মী, গবেষক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শক অংশ নেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদসহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখ।
স্বাক্ষরকারীরা মনে করেন, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও সৃজনশীল প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা হলে বাংলাদেশ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।
এখন দেখার বিষয়, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের এই ছয় দফা দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ভিওডি বাংলা/শাহাদাত হাওলাদার/এমএস








মন্তব্য