মেয়র থেকে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম?

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ রাজনীতির পরিচিত মুখ। দুই দশকের রাজনৈতিক জীবনে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, মেয়র এবং লেবার পার্টির নেতৃত্বপ্রত্যাশী ভূমিকাতেই ছিলেন আলোচনায়।
এখন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর তাঁকেই ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নেতা মনে করা হচ্ছে।
১৯৭০ সালে ইংল্যান্ডের মার্সিসাইড-এ জন্ম নেওয়া বার্নহ্যাম ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ- এ ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো লেবার পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময়ে সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নীতিবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় তিনি স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বা এনএইচএস’র পক্ষে তার জোরালো অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তিনি বরাবরই লেবার পার্টির কেন্দ্র-বাম ধারার একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য তিনি ২০১০ এবং ২০১৫ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও দুইবারই পরাজিত হন, তবে দলের ভেতরে তার প্রভাব অটুট থাকে। ২০১৭ সালে তিনি নবগঠিত গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত মেয়র হন এবং পরবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হন।
মেয়র হিসেবে তার সবচেয়ে আলোচিত সময় ছিল কোভিড-১৯ মহামারি। তখন লন্ডনের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে তিনি ম্যানচেস্টারের মানুষের জন্য বেশি আর্থিক সহায়তা দাবি করেন। অনেকের কাছে তিনি উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থরক্ষাকারী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। এই অবস্থান তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বার্নহ্যামের রাজনৈতিক দর্শনকে অনেক বিশ্লেষক "প্রাগম্যাটিক প্রগ্রেসিভ" বলে বর্ণনা করেন। তিনি একদিকে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে কথা বলেন, অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্য থাকার চেষ্টা করেন। গণপরিবহন উন্নয়ন, সাশ্রয়ী আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো তার প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে।
সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তার জয়কে শুধু একটি আসনের বিজয় নয়, বরং লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের একাংশ মনে করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভোটারদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য বার্নহ্যামের মতো জনপ্রিয় ও জনসংযোগে দক্ষ নেতার প্রয়োজন।
যদি তিনি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে স্থানীয় সরকার ও আঞ্চলিক উন্নয়নকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এনএইচএস, জনসেবা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর প্রশ্নে তার অবস্থান ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তবে তার সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। লেবার পার্টির বিভিন্ন আদর্শিক গোষ্ঠীকে একত্র রাখা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিটেনের অবস্থান শক্তিশালী করা—এসব বিষয়েই তাকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/এফএ







